বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শাজাহানপুরে আধিপত্য বিস্তার ও বর্জ্য ব্যবসায় কর্তৃত্ব দখল নিয়ে বিরোধে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জিয়াউল হক জুয়েলকে (৩২) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে বনানীর সুলতানগঞ্জ হাটে প্রকাশ্যে এ ঘটনা ঘটে। আহত জুয়েলকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বগুড়া ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোরশেদুল আলম হিরুর নেতৃত্বে এ হামলা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন ওই এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও বর্জ্য ব্যবসার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা নিয়ে মোরশেদুল আলম হিরুর সাথে জুয়েলের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। জুয়েল উপজেলার সুজাবাদ এলাকায় ইয়ন গ্রুপের (কীটনাশক প্রস্তুত ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান) বর্জ্য দখলে নিয়ে ব্যবসা করে আসছেন। আওয়ামী লীগ নেতা হিরু ওই ব্যবসায় ভাগ বসাতে চেষ্টা করলে জুয়েলের সাথে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। কয়েকদিন আগে জুয়েল ওই অফিসে হিরুকে মারধর করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চরমে ওঠে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুয়েল জানান, তিনি সোমবার বেলা ১২টার দিকে বনানীর সুলতানগঞ্জ হাটে যান। সেখানে পূর্ব বিরোধের জের ও চাঁদা না পেয়ে মোরশেদুল আলম হিরুর নেতৃত্বে সাংগঠনিক সম্পাদক আলী হায়দার টিক্কা ও গন্ডগ্রাম এলাকার আলতাফ হোসেন দলবল নিয়ে তার উপর হামলা করেন। তারা চাপাতি ও চাকু দিয়ে তার মাথা, ঘাড় ও হাতে আঘাত করে বীরদর্পে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার
করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা মোরশেদুল আলম হিরু জানান, কয়েকদিন আগে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জুয়েল তাকে মারধর করেন। সোমবার দুপুরে তিনি বনানী সুলতানগঞ্জ হাটে গেলে তাকে আবারো মারধর করেন জুয়েল। এ সময় দু’জনের মাঝে শুধু হাতাহাতি হয়েছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে জুয়েলকে আঘাত করার কোন ঘটনা ঘটেনি। হিরু দাবি করেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জুয়েল এলাকায় ‘ভূমিদস্যু জুয়েল’ নামে পরিচিত। বিকালে এ খবর পাঠানোর সময় দুই পক্ষের সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।