বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ এবং ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে বাঁশ বা ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প জাতীয় কোন কিছুর আঘাতে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার ভোর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে ২য় তলায় সিঁড়িতে আবরারকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আবরার ঐ হলেরই ১০১১ নং রুমে থাকতেন বলে জানা গেছে। পরে তার লাশ ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ ছাত্রলীগ বুয়েট শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল সহ নয়জনকে সোমবার আটক করেছে। আটককৃত সকলেই ছাত্রলীগ বুয়েট শাখার বিভিন্ন পদে রয়েছে, পুলিশ ও বুয়েট সুত্রে জানা গেছে।
বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন আবরার হত্যার প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে। বুয়েটের শিক্ষার্থীরা শেরে বাংলা হলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ মিডিয়াতে প্রকাশের দাবি করে।
সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আবরারের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢামেক ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মো. সোহেল মাহমুদ বলেন ভোঁতা কোনো কিছু দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়েছে। এটা বাঁশও হতে পারে বা ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্পও হতে পারে।
ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন তার (আবরার) সমস্ত শরীরে মারের আঘাতের চিহ্ন পেয়েছি এবং মারের আঘাতের জন্য সে মারা গেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় সাংবাদিকদের জানান তারা নয়জন তরুণকে প্রাথমিক তদন্তে চিহ্নিত করে আটক করেছে।
জানা গেছে তিন চার জন শিক্ষার্থী রবিবার সন্ধ্যায় আবরারকে তার রুম থেকে ডেকে একই হলের ২০১১ নং রুমে নিয়ে যায়।
এদিকে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার কোন নেতাকর্মী যদি আবরার হত্যাকাণ্ডে বিন্দুমাত্র জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে আবরার বাবা ঢাকায় চকবাজার থানায় ১৯ জনকে দায়ী করে একটা মামলা দায়ের করেছে।