শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
ইরানের নৌশক্তি পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি: স্বীকার করল পেন্টাগন সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না: প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৮ সালে জন্ম নেওয়া বিএনপি কীভাবে ‘মুক্তিযুদ্ধের দল’: সংসদে প্রশ্ন আজহারের ‘শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করতেই পারে না’: ফজলুর বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তকারীদের প্রশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে হামলাকারী ঘোর খ্রিষ্টানবিরোধী: ট্রাম্প ফ্লোরিডায় লিমনের সঙ্গে বৃষ্টিকেও হত্যা পাকিস্তানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফর বাতিল: ট্রাম্প বাংলাদেশে ২০২৫ সালে ‘তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়’ ছিল দেড় কোটির বেশি মানুষ স্ক্রিনশট পোস্ট করা নিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা, মারধর

বগুড়ায় ডিসেম্বর ৭ জেলা আ’লীগের সম্মেলন উপলক্ষে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৪৭৭ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের আগামী ৭ ডিসেম্বর ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকেসামনে রেখে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত।  দলীয় ও ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের আনাগোনা বেড়েছে। সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচারণা শুরু করেছেন। নানা বিশেষণে নেতাদের যোগ্য প্রমাণের চেষ্টা চলছে। সম্মেলনে অন্তত এক ডজন নেতা প্রধান দুটি পদের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। তারা নানাভাবে দলীয় হাইকমান্ড ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন। নেতারা ইতিমধ্যে জেলা কমিটির সভা করে উপজেলাসহ তৃনমূল পর্যায়ে বর্ধিত সভা, সদস্য সংগ্রহ অভিযানের ফরম সরবরাহ করেছেন।

সম্মেলনকে সামনে রেখে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতারা পদ পাবার চেষ্টা শুরু করেছেন। নবীণ ও প্রবীণ মিলিয়ে এক ডজন নেতা জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে লড়াই করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। সম্ভাব্য সভাপতি প্রার্থীরা হলেন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু, সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন দুলু, টিএম মুসা পেস্তা, অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু, অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন মুকুল প্রমুখ। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হবার সম্ভবনা রয়েছে তিন যুগ্ম সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, টি জামান নিকেতা ও মঞ্জুরুল আলম মোহন, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান দুলু, দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন নবাব, বর্তমান প্রচার সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খান রনি প্রমুখ। এছাড়া প্রয়াত সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিনের ছেলে এফবিসিসিআই এর পরিচালক ও বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের  সভাপতি সিআইপি মাসুদুর রহমান মিলনও গুরুত্বপূর্ণ কোন পদে আসতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

বর্তমান জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান দুলু জানান, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগে নেতৃত্ব দিয়েই আওয়ামী লীগে এসেছি। এবার সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে চেষ্টা করবেন। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা সুলতান মাহমুদ খান রনি জানান, প্রয়াত জননেতা  মমতাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে বগুড়ায় আওয়ামী লীগ অনেক আগে থেকেই শক্তিশালী। দলে তরুণদের নেতৃত্বে আসা প্রয়োজন। সবসময় রাজনীতির সাথেই আছি। তাই সাধারণ সম্পাদকের পদে প্রত্যাশা করছি। জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু জানান, দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে হবে। এই মুহুর্তে শক্তভাবে দলের হাল না ধরলে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারলে দলের শৃঙ্খলাও বাড়বে।

জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু জানান, আগামী ৭ ডিসেম্বর সম্মেলনের দিন ঠিক হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ও বিপুল নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের উপস্থিতিতে সম্মেলনের প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে।

তিনি বলেন, জেলা সম্মেলনের আগে তৃণমুল কোনো সম্মেলন হবার সুযোগ নেই। তবে কাহালু উপজেলা কমিটির সম্মেলন শেষ করা হবে। জেলা সম্মেলনে তিনি সভাপতি প্রার্থী হবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হয়। ওই সম্মেলনে পূণরায় প্রবীণ নেতা মমতাজ উদ্দিন সভাপতি ও মজিবর রহমান মজনু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। মমতাজ উদ্দিন এক যুগ সাধারণ সম্পাদক ও প্রায় দুই যুগ সভাপতির দায়িত্ব পালন শেষে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি  মৃত্যুবরণ করেন।  তার  মৃত্যুর পর  সংগঠনটি প্রায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। নেতাকর্মীরা তার অভাব অনুভব করছেন। দলে কোন্দল-দ্বন্দ্ব থাকলেও  প্রয়াত এই  নেতার কারণে তা বাহিরের কেউ টের পাননি। পদ-পদবির জন্য প্রকাশ্য গ্রুপিং-লবিং দেখা যায়নি। এখন দ্বন্দ্ব, কোন্দল, পদ-পদবির প্রতি চাহিদা প্রকাশ্য দেখা যাচ্ছে। কিছু নেতা ছোট ছোট গ্রুপ ও উপ গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নিজ নিজ আখের গোছাতে ব্যস্ত। দলীয় সভাতেও মাঝে মাঝেই দেখা যাচ্ছে বিশৃঙ্খলা।  সম্প্রতি জেলা কমিটির সভায় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান  মকবুল হোসেনকে দলের কিছু নেতা উচ্চস্বরে কথা বলেছেন। যা মমতাজ উদ্দিন বেঁচে থাকতে কারো সাহস হয়নি। এদিকে দলের কয়েকজন নেতা মারা যাওয়ায় সেখানেও শূন্যতা বিরাজমান।  তাই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব চান তৃনমূল। তারা প্রয়াত মমতাজ উদ্দিনের রেখে যাওয়া শক্তিশালী সংগঠনের গতিশীলতা দেখতে চান।দলীয় সুত্র জানায়, জেলার ১৩ ইউনিটের মধ্যে সবগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ। এর মধ্যে এক উপজেলায় দ্বন্দ্বের কারণে আজও পূর্নাঙ্গ কমিটি দিতে পারেনি। আর গুরুত্বপূর্ণ পৌর বা শহর কমিটি গত ৬ বছর ধরে আহবায়ক কমিটি দিয়ে চলছে। ২০১২ সালের  ডিসেম্বর মাসে সোনাতলা ,  শিবগঞ্জ,  আদমদীঘি,  নন্দীগ্রাম,  শাজাহানপুর, এবং দুপচাঁচিয়া,  ২০১৩ সালের  জানুয়ারিতে সারিয়াকান্দি, কাহালু, ধুনট,  গাবতলী,  শেরপুর এবং ফেব্রুয়ারিতে  সদর উপজেলার সম্মেলন হয়েছে। জেলা কমিটি ২০১৪ সালে এসব কমিটি অনুমোদন দেয়। তবে কাউন্সিলরের তালিকায় অনিয়মের কারণে পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলন স্থগিত করে ২০১৩ সালের নভেম্বরে আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়। কিন্তু  আজও সম্মেলন হয়নি। কাহালু উপজেলাকে বার বার তাগাদা দিয়েও পূর্নাঙ্গ কমিটি হয়নি বলে দলীয় সুত্রে জানা গেছে।এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য অনুসারে সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিতর্কিতদের কমিটিতে জায়গা দেবেন না। এই ঘোষণায় নড়েচড়ে বসেছেন দলটির পদ প্রত্যাশীরা। জেলা সম্মেলনে পদ পেতে ভিতরে ভিতরে অনেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলা আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে কয়েকটি ইউনিয়ন ও ধুনট উপজেলায় বর্ধিত সভা হয়েছে। অন্যান্য ইউনিটেও কাজ চলছে বলে নেতারা জানিয়েছেন।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com