ভোলার বোরহানউদ্দিনে রবিবার একটি ফেসবুক পোস্টের প্রতিবাদ সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও জনতার মধ্যে সংঘর্ষে দুইজন শিক্ষার্থীসহ চারজন নিহত ও পুলিশ, সাংবাদিক সহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ফেসবুকে মহানবীকে (সা.) নিয়ে কটূক্তি করার প্রতিবাদে রোববার বেলা ১১টায় বোরহানউদ্দিন হাইস্কুল মাঠে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘তৌহীদী জনতা’ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নিতে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত লোক একত্রিত হয়ে ‘নবী অবমাননা’ ও ‘আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তিকারীর ফাঁসি চাই’- স্লোগান দিয়ে সমাবেশস্থলে আসেন। কিন্তু সমাবেশ শুরুর আগেই তা শেষ করতে তাগাদা দেয় পুলিশ। একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয়পক্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে সাংবাদিক-পুলিশসহ আহত হন অর্ধশতাধিক। আহতদের বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভোলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়।
এদিকে ভোলা জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার সাংবাদিকদের জানান যে ফেসবুক আইডি হ্যাক (ফেসবুক) করার নিয়ে আজকের এই ঘটনা। হ্যাক হয়েছিল ১৮ তারিখে। শুভ নামের ফেসবুক আইডি হ্যাক করেছিল। হ্যাক হওয়ার পর থেকে যারা হ্যাকের সাথে সন্দিহান তাদের সবাইকে আমরা গ্রেফতার করে নিয়ে এসেছিলাম। উনারা (সমাবেশের আয়োজকরা) বলেছে আজকে তাদের যে নির্ধারিত প্রোগ্রাম ছিল সেটা হবে না। কিন্তু সকাল থেকেই আমরা জানতে পারলাম যে উনারা মাইক নিয়ে
স্টেজ বানাচ্ছে ভোর বেলা থেকে।আমরা ঘটনাস্থলে আসি, আমরাও স্টেজ থেকে নেমে এসেছি চলে যাব ঠিক সেই মুহূর্তেই হঠাৎ উত্তেজিত একদল জনতা আমাদের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। আমরা আত্মরক্ষারতে কয়েক রাউন্ড শর্টগান ফাঁকা গুলি করি। তারপর দেখি আমাদের দরজা জানালা ভেঙ্গে ফেলছে তখন আমরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করি।