বাংলা হেডলাইনস গাজীপুর প্রতিনিধি: মুগ্ধ হবার মতো সৌন্দর্যের ফুল টিউলিপ। সাধারণত পৃথিবীর শীতল দেশেগুলোতে এ ফুল বেশি চাষ হয়। আমাদের দেশে এই ফুলের বেশ চাহিদা থাকায় এখন তা বিদেশ থেকে আনা হচ্ছে।
নেদারল্যান্ডস আর কাশ্মিরে ব্যাপকভাবে চাষ হওয়া সেই টিউলিপ ফুল শিল্প অধ্যুষিত গাজীপুরে বানিজ্যিকভাবে ফুটিয়েছেন একজন ফুলচাষি। গত বছর তিনি প্রথম চাষ করেছিলেন।
এবার এই ফুলের বাগানের পরিধি বাড়িয়েছেন। বাগানে তুলবেন বিক্রি করতে। দেশের প্রথম বাণিজ্যিকভাবে টিউলিপ চাষের খবর পেয়ে তা দেখতে মন্ত্রী-এমপিরা ছুটে আসছেন এখানে। এরই মাঝে এসছেন কৃষি মন্ত্রী, এসেছেন শিক্ষামন্ত্রী। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও এসেছেন ।
এই ফুলের সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হচ্ছেন, ভীষণ আগ্রহী হচ্ছেন এলাকাবাসিসহ সবাই। খবর পেয়ে দূর-দূরান্ত থেকেও ছুটে আসছেন ফুল পাগল মানুষ। শুধু তাই নয়, অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে এই টিউলিপ ফুল।
এই দেশে অনেকটাই অসম্ভব হলেও গাজীপুরের দেলোয়ার হোসেন দেশের মাটিতে ফুটিয়েছেন টিউলিপ ফুল। লাল, হলুদসহ ছয় রঙের এই ফুলে ফুলে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে বাগানে।
দৃষ্টিনন্দন ‘মৌমিতা ফ্লাওয়ার্স’ নামের এই বাগান দেখতে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিদিন দর্শনার্থী ও উদ্যোগক্তারা ভিড় করছেন।
ন্যাদারল্যান্ড আর কাশ্মিরের মনমুগ্ধকর টিউলিপ বাগানগুলো পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। আমাদের দেশেও ব্যাপক চাষাবাদে পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব।
বিদেশ থেকে আনা টিউলিপ এখন প্রতিশত পিস বিক্রি হচ্ছে সাতশ থেকে আটশত টাকা দরে। সেখানে চারশত থেকে পাঁচশত টাকা দরে বিক্রি করলে অনেক লাভ করা সম্ভব হবে বলে জানান দেলোয়ার হোসেন। তার সহযোগিতায় বাণিজ্যিকভাবে যে কেউ টিউলিপ ফুল চাষে আসতে পারেন।
এর আগে তিনি জারবেরা, রজনীগন্ধা, বাহারি রঙের চায়না গোলাপ চাষেও ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। ২০১৭ সালে অর্জন করেছেন বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক।
দেলোয়ার তার বাগানে ৩০ জন লোকের কর্মসংস্থান সৃস্টির পাশাপাশি বছরে অন্তত ৪০ লাখ টাকা মুনাফা করছেন।
পৃথিবী জুড়ে টিউলিপ ফুলের ব্যাপক কদর রয়েছে। হল্যান্ড, চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদনি করে চাহিদা পূরণ করা হয়।
শীতপ্রধান জেলা পঞ্চগড়সহ বেশ কিছু অঞ্চলের তাপমাত্রা কম, তাই ওই এলাকাগুলোতে এই ফুল চাষে সফলতা সহজে পাওয়া যাবে।
বাগান মালিক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, শীত প্রধান এলাকার ফুল হলেও এক হাজার টিউলিপ চারা (বাল্ব) নেদারল্যান্ড থেকে এনে গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে রোপণ করেন তিনি।
এবার বাণিজ্যিক ভাবে বড় পরিষরে চাষ করেছন। তিনি মনে করছেন, আমাদের দেশেও এ ফুলের বেশ চাহিদা রয়েছে। কেউ উদ্যোগী হলে তিনি টিউলিপ ফুলের জাত সরবরাহ থেকে শুরু করে সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা করবেন বলে জানান।
ব্যাপকভাবে এর চাষ করে বর্তমানের চেয়ে কমদামে বিক্রি করেও অনেক টাকা আয় করা সম্ভব।
কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বাগানটি পরিদর্শন করে বলেন, বাণিজ্যিকভিত্তিক এখানে টিউলিপ ফুল চাষের খবর ছড়িয়ে পড়ায় এবার মন্ত্রী-এমপিরা সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসছেন এখানে। দেলোয়ার হোসেন যে স্বপ্ন দেখালেন, তার সম্ভাবনা দেখে সেটাকে অর্থনীতিতে কাজে লাগাতে চাইছেন তারা।
এই ধরণের উদ্যোক্তাদের পৃষ্টপোষকতা দিয়ে টিউলিপ ফুল ও অপ্রচলিত আরো ফসলের উৎপাদ বাড়িয়ে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানী করে বিপুল আয় করা চিন্তা করছেন তারা।