বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ায় তারাবির নামাজ আদায় করতে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজের দুই দিন পর মশিউর রহমান সোনা মিয়া (৩০) নামে দলিল লেখকের লাশ পাওয়া গেছে।
সদর থানা পুলিশ শনিবার সকালে বারপুর দক্ষিণপাড়ার একটি ধানক্ষেত থেকে তার পঁচন ধরা মরদেহ উদ্ধার করেছে। ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, তাৎক্ষণিকভাবে এ হত্যাকান্ডের কারণ জানা যায়নি।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, বগুড়া সদর রেজিস্ট্রি অফিসের শিক্ষানবিশ দলিল লেখক (মহুরি) মশিউর রহমান সোনা মিয়া সদর উপজেলার বারপুর দক্ষিণপাড়ার মৃত মকবুল হোসেন নান্নু মিয়ার ছেলে।
প্রায় আড়াই বছর আগে নান্নু মিয়া খুন হন। এ মামলায় তার ছেলে মাদকসেবী তৌফিকুর রহমান তোতা মিয়া (২৮) আসামি হন। মামলার বাদি ছিলেন, নিহত সোনা মিয়া। তোতা মিয়া সম্প্রতি জামিনে ছাড়া পেয়েছেন।
গত ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যার পর সোনা মিয়া বাড়ি থেকে এলাকার মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করতে যান। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন সাথে নেননি। আট রাকায়াত নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হন। রাতে বাড়ি না ফিরলে পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজ করে তার সন্ধান পাননি। এতে তারা চিন্তিত হয়ে পড়েন। পরদিন ৩০ এপ্রিল শুক্রবার সোনা মিয়ার স্ত্রী সোনিয়া আকতার সদর থানায় জিডি করেন।
এদিকে শনিবার সকালে বাড়ির পিছনে ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন ধান ক্ষেত থেকে পঁচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীরা সেখানে গিয়ে সোনা মিয়ার লাশ দেখতে পান। পরিবারের সদস্যরা লাশটি শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ বেলা সাড়ে ১০টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, এটি হত্যাকান্ড ধারণা করা হলেও তাকে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের পর এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত ও হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। সোনা মিয়া হত্যাকান্ডের ব্যাপারে তার পরিবারের সদস্যরা মুখ খুলছেন না।
তবে এলাকাবাসীরা ধারণা করছেন, নান্নু মিয়া হত্যা মামলার আসামি ছেলে তোতা মিয়া বাদি সোনা মিয়া হত্যার সাথে জড়িত। উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর নান্নু খান জানান, এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।