বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ায় মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় সিএনজি চালিত অটোরিকশার যাত্রী দুই মাসের নাতিসহ এক দম্পতি নিহত হয়েছেন।
অটো চালকসহ দু’জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা কবলিত বাসেরও অন্তত ১৩ জন যাত্রী আহত হন।
শনিবার সকালে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান বাজারের উত্তরে হাতীবান্ধা এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) ও বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর অন্তত আধাঘন্টা মহাসড়কে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। হাইওয়ে পুলিশ গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি খায়রুল ইসলাম এ তথ্য দিয়েছেন।
নিহতরা হলো বগুড়া সদরের বারপুর মধ্যপাড়ার মৃত ছবির উদ্দিন প্রামানিকের ছেলে আশরাফ আলী (৫০), তার স্ত্রী পারুল বেগম (৪২) ও তাদের দু’মাস বয়সী নাতি রেজওয়ান ইসলাম। শিশুটির বাবার নাম আরশেদুল ইসলাম।
হাইওয়ে পুলিশের এএসআই আবদুল আলিম ও স্থানীয়রা জানান, আশরাফ আলী তার স্ত্রীকে নিয়ে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ি এলাকায় ছেলে আরশেদুল ইসলামের শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যান।
সেখানে তাদের দু’মাস বয়সী নাতি রেজওয়ান ইসলাম শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। শিশুটিকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার সকালে ওই দম্পতি নাতিকে নিয়ে একটি সিএনজি অটো রিকশায় (বগুড়া-থ-১১-১৭৪১) জুমারবাড়ি থেকে বগুড়ার হাসপাতালের দিকে রওনা হন।
সকাল ৮টা ৫ মিনিটে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান বাজারের উত্তরে হাতিবান্ধা এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে পৌঁছেন।
এ সময় কুমিল্লা ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী আহসান এন্টারপ্রাইজের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৫৭৭৫) সেখানে পৌঁছলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বেপরোয়া গতিতে আসা অটো রিকশাকে সামনে ধাক্কা দেয়।
এতে সিএনজি অটো রিকশা দুমড়ে মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই যাত্রী আশরাফ আলী ও তার স্ত্রী পারুল বেগম মারা যান। আহত হন তাদের অসুস্থ নাতি রেজওয়ান, অটো চালক ও আরেক যাত্রী। এ সময় উল্টে যাওয়া বাসের অন্তত ১৩ জন যাত্রী আহত হন।
হাইওয়ে পুলিশ ও শিবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের মধ্যে গুরুতর ১০ জনকে উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। পথিমধ্যে শিশু রেজওয়ান মারা যায়।
হাইওয়ে পুলিশ গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি খায়রুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি জব্দ করা হলেও এর চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশ গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।