বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৩ এর পেশকার যৌতুক মামলার বাদীকে আসামি সাজিয়ে জেলে আদালতের শ্যোন অ্যারেস্ট ও হাজির করার নির্দেশ প্রেরণ করায় আসামি পুলিশ কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন জুয়েল (৩৬) মুক্তি পেয়েছেন।
ফলে সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। পেশকার জুয়েল হোসেন এ ভুল করলেও তিনি এ দায় জেল কর্তৃপক্ষকে চাপানোর ব্যর্থ চেষ্টা করেছেন। তার এহেন ঘটনায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পেশকার জুয়েল হোসেন জানান, ভুলে এমনটা হয়েছে। বাদী পক্ষের আইনজীবী সাজিদ ওয়াসিক বাঁধন জানান, পেশকার অজ্ঞাত কারণে বিলম্বে ভুল আদেশ জেলে প্রেরণ করায় আসামি ছাড়া পেয়েছেন।
জেল সুপার মনির আহমেদ জানান, বাদীকে আসামি সাজিয়ে ও দেরিতে আদালতের নির্দেশ পাঠানোর কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে আদালতকে অবহিত করা হয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ সার্কেল অফিসের কনস্টেবল কাম কম্পিউটার অপারেটর আনোয়ার হোসেন জুয়েল বগুড়া শিবগঞ্জের মোকামতলা ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রামের মৃত আনসার আলীর ছেলে। তিনি একই উপজেলার শিয়ালী মাস্টারপাড়ার মৃত ওসমান আলীর মেয়ে খাতিজা আকতারকে বিয়ে করেন।
দাম্পত্য কলহে খাতিজা আকতার স্বামী জুয়েলের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা করেন। এছাড়া খাতিজার বড় বোন সেলিনা আকতার তার (জুয়েল) বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলা করেন।
যৌতুক মামলায় (১১৭সি/১৮) বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৩ আদালত তাকে এক বছর পাঁচ মাস সশ্রম কারাদন্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরো এক মাস বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেন।
আসামি পলাতক থাকায় বিচারক সঞ্চিতা ইসলাম গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর সাজা পরোয়ানা জারি করেন। অপরদিকে চেক জালিয়াতির মামলায় (৪৩৭/২০ দায়রা) বগুড়ার প্রথম যুগ্ম জজ আদালত তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও চার লাখ টাকা জরিমানা করেন। পলাতক থাকায় গত ১৭ মে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এদিকে পুলিশ দুটি মামলার সাজা পরোয়ানামূলে সাজাপ্রাপ্ত আসামি পুলিশ কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন জুয়েলকে গ্রেফতার ও গত ৯ জুন বগুড়া জেল হাজতে প্রেরণ করে। ১২ জুন অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম তাকে প্রথম যুগ্ম জজ তৈয়ব আলীর আদালতে হাজির করে দুই লাখ টাকা জমা দিয়ে জামিন প্রার্থনা করলে তা মঞ্জুর করা হয়। যৌতুক মামলায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শায়লা সাজাপ্রাপ্ত আসামি আনোয়ার হোসেন জুয়েলকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখাতে ও ১৩ জুন আদালতে হাজির করতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন।
বগুড়া কারাগারের জেলার এসএম মহিউদ্দীন হায়দার জানান, আদালতের মুক্তিনামা আসা ও অন্য কোন ওয়ায়েন্ট না থাকায় রোববার বিকাল ৫.২৫ মিনিটে আসামি আনোয়ার হোসেন জুয়েলকে মুক্তি দেওয়া হয়। বিকাল ৬.১০ মিনিটে খাতিজা আকতারের নামে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জেলে এলে ডেপুটি জেলার শাহরিয়ার তা গ্রহণ করেন। কিন্তু জেলে এ নামে কোন আসামি ছিলনা।
আদালতের পেশকারের ভুলে ও সময়মত কাগজপত্র না আসায় আসামি ছাড়া পেয়েছেন।
আইনজীবী সাজিদ ওয়াসিক বাঁধন জানান, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৩ এর পেশকার জুয়েল হোসেন তাকে জানিয়েছেন, তিনি সময়মত জেলে যৌতুক মামলার আসামি আনোয়ার হোসেন জুয়েলের নামে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট পাঠিয়েছেন। এরপর তিনি সাংবাদিকদের বিষয়টি অবহিত করেন।
এ প্রসঙ্গে রোববার দুপুরে পেশকার জুয়েল হোসেন জানান, তিনি ভুলবশত: বাদীকে আসামি সাজিয়ে ও বিলম্বে জেলে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট প্রেরণ করেন। সোমবার আসামিকে হাজির করা হয়নি। এ ব্যাপারে আদালত পরে সিদ্ধান্ত জানাবেন।
জেল সুপার মনির আহমেদ জানান, জেলে খাতিজা আকতার নামে কোন আসামি না থাকার বিষয়টি সোমবার চিঠির মাধ্যমে আদালতকে অবহিত করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের ভুলে আসামি ছাড়া পেয়েছেন।