বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া শহরে নবম শ্রেণির ছাত্র রবিউল ইসলাম রবিন (১৭) হত্যা রহস্য উন্মোচিত হয়েছে।
দোকানে বাকি খাওয়া নিয়ে বাবার সাথে বিরোধের জের ধরে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। ঢাকার সাভার থেকে গ্রেফতার আসামি মো: পারভেজ বুধবার বিকালে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুমিন হাসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
এর আগে তার দেখানো মতে ঘটনাস্থল শহরের উত্তর গোদারপাড়ার একটি দোকানের নিচ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত বামির্জ চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। সদর থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী এ তথ্য দিয়েছেন।
পুলিশ ও এজাহার সূত্র জানান, নিহত রবিউল ইসলাম রবিন বগুড়া শহরের উত্তর গোদারপাড়ার মুদি দোকানী নওশাদ আলীর ছেলে। সে শহরের কারবালা এলাকায় টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে (টিটিসি) নবম শ্রেণিতে পড়তো। রবিন গত ৪ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড়িতে ফিরছিল। বাড়ির কাছে দৃর্বৃত্তরা তার উরুতে ছুরিকাঘাত করে।
রক্তাক্ত রবিনকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা নওশাদ পরদিন দুপুরে সদর থানায় গোদারপাড়ার মো: জাহাঙ্গীরের ছেলে তিন মামলার আসামি মো: পারভেজকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। রাতেই পুলিশ রাহিদ নামে আসামিকে গ্রেফতার করে।
বুধবার বিকালে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার রাতে ঢাকার সাভার থেকে প্রধান আসামি পারভেজকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, রবিনের বাবা মুদি দোকানী নওশাদের সাথে তার বাকি খাওয়াসহ নানা কারণে বিরোধ ছিল।
এর জের ধরেই তিনি ছুরিকাঘাতে রবিনকে হত্যা করেন। পরে তার স্বীকারোক্তিতে গ্রামের একটি দোকানের নিচ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাকুটি উদ্ধার করা হয়।
সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) বাবু কুমার সাহা জানান, বুধবার বিকালে পারভেজকে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুমিন হাসানের আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তিনি নবম শ্রেণির ছাত্র রবিনকে হত্যার ব্যাপারে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।