বগুড়ার নগর নদ থেকে অবাধে বালু উত্তোলন
বাংলা হেডলাইনস বগুরাঃ বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় নাগর নদের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রভাবশালীরা ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। বালু বিক্রি করে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হলেও বাঁধ, নদী তীরবর্তী রাস্তা, বাড়ি ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। ভুক্তভোগীরা বালু উত্তোলন করে তাদের বাঁচাতে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জাকির হোসেন জানান, গ্রামবাসীদের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে একাধিকার বার ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে সরঞ্জামাদি ও বালু জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, শিগগিরই অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আবারো ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।
শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে গত ১৮ নভেম্বর জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
খোঁজ নিয়ে ও অভিযোগে জানা গেছে, বগুড়ার দুপচাঁচিয়া ও কাহালু উপজেলা সীমানার বুক চিরে নগর নদ প্রবাহিত। এলাকা রক্ষায় নদের দু’ধার দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। আশপাশে বাড়িঘর ও পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। অনেক ফসলি জমিও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার তালোড়ার পলিপাড়া, ভেলুরচক, গন্ডিশ্বর এলাকার কয়েকজন বালু ব্যবসায়ী প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় নদের বিভিন্ন স্থান থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। অনেকে নদের ধারে সামান্য জায়গা কিনে প্রথমে সেখানে মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে। পরবর্তীতে নদের মাঝে শ্যালো বা ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে। এ বালু বহনের জন্য নদ রক্ষা বাঁধ কেটে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যাক ট্রাকসহ অন্যান্য বাহনে বালু পরিবহণ করায় আশপাশের গ্রামীন সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ধুলার কারণে জনগণের বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তালোড়ার পলিপাড়া, ভেলুরচক, গন্ডিশ্বর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, চলাচলের রাস্তায় বালু স্তুপ করে রাখা হয়েছে। অবাধে বালু উত্তোলন করায় নদের দু’তীরের বাড়িঘর ও ফসলি জমিতে ফাঁটল ধরেছে। এছাড়া নদ থেকে এলাকা রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। কারা বালু উত্তোলন করছে এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি।