বাংলা হেডলাইনসঃ জুলাই ১ দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঢাকার হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার আসামিদেরকে বুধবার মহানগর দায়রা জজ আদালতে প্রবেশের সময় এবং রায়ের পর বিচলিত নয় বরং উৎফুল্ল মনে হচ্ছিল।এই জঙ্গি হামলায় অভিযুক্ত ৮ জন আসামির প্রায় সবাই প্রিজন ভ্যান থেকে পুরাতন ঢাকায় আদালত প্রাঙ্গণে নামার সময় তাদের অঙ্গ ভঙ্গিমায় মনে হচ্ছিল তারা একটু পরেই আদালত যে রায় দেবে সে ব্যাপারে মোটেই চিন্তিত নয়। আসামির কেউ কেউ হাতের অঙ্গুলি প্রদর্শনে তা প্রকাশ করেছে।
প্রায় একই চিত্র দেখা যায় আসামিরা আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিয়ে এজলাস থেকে বেরিয়ে আবারো প্রিজন ভ্যানে উঠার সময়। আসামিদের মধ্যে দুজন এজলাসে প্রবেশ করে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস লেখা টুপি পড়ে।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকের এ ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন আসামির আইএস লেখা টুপি পড়ার বিষয়টি তদন্ত করা হবে।
বুধবার ঢাকা সন্ত্রাস-বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল রাজধানীর হলি আর্টিজানে নৃশংস জঙ্গি হামলার আট জন অভিযুক্ত আসামির মধ্যে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। অপর একজন আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে আইনজীবী, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতে জনাকীর্ণ আদালত রুমে ঢাকা সন্ত্রাস-বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ মুজিবুর রহমান আটজন আসামির উপস্থিতে এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনাল দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনাল রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন নব্য-জেএমবির সদস্যরা ভয়ঙ্কর হামলা চালিয়েছিল জনগণের মধ্যে ভীতি সঞ্চার এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস এর দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য। আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন যে তামিম চৌধুরী হলি আর্টিজান জঙ্গি হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিল এবং পুরো ঘটনা সমন্বয় করেছিল।
তামিম চৌধুরী কাউন্টার টেরোরিজম অভিযানে মারা যায় বলে জানা যায়।
ট্রাইব্যুনাল প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
হলি আর্টিজান জঙ্গি হামলায় জড়িত ২১ জনের মধ্যে ১৩ জন বিভিন্ন সময়ে কাউন্টার টেরোরিজম অভিযানে মারা যায় বলে জানা যায়।

২০১৬ সালে ১ জুলাই রাতে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা চালানো হয়। এই হামলায় দেশি-বিদেশি ২১ জন নাগরিককে হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে বেশিভাগই ইতালি ও জাপানের নাগরিক ছিল। বাংলাদেশিদের মধ্যে গোয়েদা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল করিম এই জঙ্গি হামলায় নিহত হন।
সন্ত্রাস-বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের রায়ে সাতজন মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামিরা হলো জাহাঙ্গির হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে আসলাম হোসেন ওরফে র্যাশ, আব্দুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ , হাদিসুর রহমান সাগর, শরিফুল ইসলাম এবং মামুনুর রশিদ।
ট্রাইব্যুনাল মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানকে এই মামলা থেকে খালাস দিয়েছেন।
সকাল প্রায় ১০:১৫ মিনিটের দিকে আটজন আসামিকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে আনা হয় এবং জজ কোর্ট হাজতে রাখা হয়। আদালত এবং আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যাবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। আসামিদের সকাল ১১:৫০ মিনিটের দিকে কোর্ট রুমে নেওয়া হয়।
২০১৮ সালের নভেম্বের মাসে ৮ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে হলি আর্টইজান জঙ্গি হামলার বিচারের কার্যক্রম শুরু হয়। পুলিশ সন্ত্রাস-বিরোধী আইনে গুলশান থানায় এই জঙ্গি হামলার মামলা দায়ের করে।