বাংলা হেডলাইনস বগুড়া : পনের দফা দাবিতে রোববার সকাল ৬টা থেকে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের সকল পাম্পে জ্বালানি তেল উত্তোলন, বিপণন ও পরিবহণ বন্ধ রয়েছে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সরকার দাবি মেনে না নেয়ায় বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এ ধর্মঘটের (কর্মবিরতি) ডাক দেয়। এতে বগুড়ার ৫০টিসহ তিন বিভাগে প্রায় দুই হাজার পাম্পে জ্বালানি বিক্রি না হওয়ায় পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল চালিত যানবাহনের মালিক এবং শ্রমিকরা বিপাকে পড়েছেন।
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি এমএ মোমিন দুলাল জানান, রোববার দুপুর পর্যন্ত সরকারের পক্ষে কেউ তাদের ডাকেনি; কালকে বৈঠক হবার সম্ভবনা রয়েছে। অন্যথায় ধর্মঘট চলবে।
রোববার দুপুরে বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পাম্প খোলা থাকলেও মেশিনগুলো কাপড় দিয়ে ঢাকা। যানবাহনের চালকরা তেল নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। যারা শনিবার রাতে জ্বালানি সংগ্রহ করেছেন; তারা গাড়ি চালাতে পারছেন। রাতে পাম্পগুলোতে ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শহরের স্টেশন রোডে হক অ্যান্ড কোং নামে পাম্পে গিয়ে দেখা যান মোটর সাইকেলে পেট্রোল নিতে এসে জনগণ ভিড় করছেন। বগুড়া শহরের ফুলবাড়ি এলাকার আবদুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী জানান, পাম্পে ধর্মঘটের কথা জানা ছিলনা। ব্যবসায়ী কাজে তার নাটোরের সিংড়ায় যাবার কথা। কিন্তু পাম্প থেকে পেট্রোল দেয়া হচ্ছেনা। পাম্পের কর্মচারিরা জানান, ধর্মঘট প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা পেট্রোল, অকটেল বা ডিজেল বিক্রি করতে পারবেন না।
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি এমএ মোমিন দুলাল জানান, জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন বৃদ্ধি, ট্যাংকলরি চলাচলে পুলিশী হয়রানি বন্ধ, পৌরসভার চাঁদা আদায় বন্ধ, পেট্রোল পাম্পের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিলসহ ১৫ দফা দাবি আদায়ে সরকারকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আলটিমেটাম দেয়া হয়েছে। গত ২৬ নভেম্বর দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে সংগঠনের মহাসচিব মিজানুর রহমান রতন এ আলটিমেটাম দেন। নির্দিষ্ট সময়ে সরকার দাবি মেনে না নেওয়ায় ১ ডিসেম্বর রোববার সকাল ৬টা থেকে বগুড়ার ৫০টিসহ তিন বিভাগে প্রায় দুই হাজার পাম্পে জ্বালানী তেল উত্তোলন, বিপণন ও পরিবহণ বন্ধ রয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিগত দিনে সরকার তাদের দাবি-দাওয়া মেনে নিতে প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়ন করেনি। এ কারণে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ১৫ দফা দাবি বাস্তবায়নে আলমেটাম দেয়া হয়েছিল। কিন্তু মেনে না নেয়ায় আমরা ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হয়েছি। রোববার দুপুর পর্যন্ত সরকারের পক্ষে তাদের সাথে কোন কথা বলা হয়নি। তিনি আশা করেন, সোমবার এ নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে আলোচনা হতে পারে। অন্যথায় পাম্পে তাদের কর্মবিরতি বা ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।