বাংলা হেডলাইনস: দেশে ফিরে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিএনপির জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসের কথা বলেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই আত্মবিশ্বাসের কথা শুনিয়েছেন।
প্রায় দেড় যুগ ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করে আসা তারেক রহমান মনে করেন, যে জনআকাঙ্ক্ষা নিয়ে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনাকে সরানো হয়েছে, একটি ‘অবাধ ও গ্রহণযোগ্য’ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তা ‘পূর্ণতা পাবে না’।
তিনি বলেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসী, আমরা জয়ী হব। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, আমরা এককভাবে সরকার গঠন করার মত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাব।”
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস লিখেছে, এই প্রথমবারের মত তারেক রহমান তাদের সামনাসামনি কোনো সাক্ষাৎকার দিলেন।
ইংরেজিতে দেওয়া এ সাক্ষাৎকারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “আমি মনে করি, আমার দেশে ফেরার সময় ঘনিয়ে এসেছে।”
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যারাই সরকার গঠন করুক, তাদেরকে ভঙ্গুর অর্থনীতির মুখোমুখি হতে হবে, বারণ মার্কিন শুল্ক আর প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক দূরত্বের কারণে গুরুত্বপূর্ণ পোশাক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ‘অন্যান্য দলকে সঙ্গে নিয়ে; বিএনপি সরকার গঠন করতে ‘প্রস্তুত; রয়েছে।
এনসিপির বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা তাদের রাজনীতিতে স্বাগত জানাই। তারা তরুণ, তাদের সবার সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ রয়েছে।”
দেশের অর্থনীতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আনতে চান, সাক্ষাৎকারে সেই চিন্তাভাবনাও তুলে ধরেন বিএনপি নেতা। যেমন—পোশাক রপ্তানির ওপর থেকে তিনি নির্ভরতা কমাতে চান। সেক্ষেত্রে অ্যামাজন, ইবে কিংবা আলিবাবার মত অনলাইন খুচরা বিক্রেতাদের জন্য বাংলাদেশকে একটি ‘সাপ্লাই হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অনুসরণ করা হবে।
দুই দেশের সম্পর্ককে ‘একপেশে’ আখ্যা দিয়ে তা নতুনভাবে গড়ে তোলার কথাও বলেছেন তারেক।
জরুরি অবস্থার সময় ২০০৮ সালে সপরিবারে লন্ডনে যাওয়ার পর থেকে সেখানেই আছেন ৫৯ বছর বয়সী তারেক, সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।
তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ‘প্রতিশোধের চক্র’ ভাঙবে। গত অগাস্ট থেকে ‘এ ধরনের আচরণের অভিযোগে’ দলের প্রায় সাত হাজার সদস্যকে শাস্তি দেওয়ার কথাও তিনি বলেছেন।
তারেক বলেন, যদি ভোটে জিততে পারেন, তাহলে পাচার করা অর্থ দেশে ফেরাতে ইউনূস সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবেন।
এর আগে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের জরিপে বাংলাদেশ টানা চার বছর সবচেয় দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ছিল।
বিএনপির সেই অতীত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তারেক রহমান বলেন, “সব সরকারেরই কিছু না কিছু ত্রুটি থাকে।”
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস লিখেছে, ২০০৮ সালে ফাঁস হওয়া এক মার্কিন কূটনৈতিক বার্তায় তারেক রহমানকে দুর্নীতিবাজ আখ্যা দেওয়া হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তারেক বলেন, মার্কিন কূটনৈতিক বার্তার মূল ভিত্তি ছিল বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের ‘মিথ্যা বর্ণনা’।
আওয়ামী লীগ আমলে যেসব মামলা হয়েছিল, সেগুলো খারিজ হয়ে যাওয়ার কথাও সাক্ষাৎকারে বলেছেন তারেক রহমান। সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম