শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১৯ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
বিরোধী দলের ওয়াকআউটকে বাহানা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব : রাষ্ট্রপতি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টির মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্যমন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিন ‘অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনার’ দৃষ্টান্ত: এনসিপি বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু ২৪-এর আন্দোলন ছিল যুদ্ধের রিহার্সেল: জামায়াত আমির মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভী

বিরোধী দলের ওয়াকআউটকে বাহানা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ০ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস: বিরোধী দলের সংসদ থেকে ওয়াকআউটের সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তুচ্ছ বাহানায় কথায় কথায় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করলে আখেরে গণতন্ত্রেরই ক্ষতি হবে। এই সংসদকে কার্যকর করতে না পারলে গণতন্ত্র বার বার হোঁচট খাবে এবং সেটির জন্য ইতিহাস বিরোধী দলকেই দায়ী করবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর তিনি বলেন, “এই সংসদকে আমরা জীবন্ত রাখি। সমস্ত আলাপ আলোচনা এখানেই করি। সামান্য বাহানায় যেন আমরা কথায় কথায় ওয়াকআউট না করি। এতে লাভ কার হবে জানি না। কিন্তু ক্ষতি হবে গণতন্ত্রের।”

এর আগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ও গুম প্রতিরোধ এবং প্রতিকার বিল উত্থাপনের আগে পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের বদলে ‘খণ্ডিত সংস্কার’ করার অভিযোগ তুলে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সদস্যরা।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং পূর্ণাঙ্গ সংস্কার চান। বিচ্ছিন্নভাবে সংস্কারের কোনো প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চান না।

বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন সংসদে আনার দাবি প্রথম অধিবেশন থেকেই বিরোধী দল করে আসছিল।”

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এটি খুব তাড়াহুড়ো করে করা হয়েছিল এবং তাতে কিছু ভুল-ত্রুটি ছিল। সরকার তখন বলেছিল দেশি-বিদেশি অংশীজন, কূটনৈতিক মিশন, মানবাধিকার সংগঠন, ইউএনডিপি ও সংশ্লিষ্ট নাগরিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নতুন আইন আনা হবে।

“কয়েক মাস আমরা সবাই আলাপ আলোচনা করে একটা মানবাধিকার কমিশন আইন আজ বিল আকারে নিয়ে এসেছি।”

তার দাবি, বিলটি আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে এবং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। একইসঙ্গে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলও বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ‘সমৃদ্ধ শক্তিশালী’ আইন হিসেবে আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আজ বিলটা শুধু উত্থাপিত হওয়ার কথা এবং কমিটিতে প্রেরণের কথা। এরপর সময় পাওয়া যেত দুই-চার দিন, তারপরে সেটা বিবেচনায় আসত। একই বিষয় গুম প্রতিকার এবং প্রতিরোধ, এই আইনটাও আমরা সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে একটা সমৃদ্ধ, শক্তিশালী আইন নিয়ে এসেছি আজকে বিল আকারে। সেটাও উত্থাপিত হওয়ার কথা, পরে কমিটিতে যাবে, আলাপ-আলোচনা হবে।”

দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস, দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ অধিবেশন চেয়ে রাষ্ট্রপতিকে বিরোধীদলীয় নেতার চিঠি দেওয়ার প্রসঙ্গও তোলেন সালাহউদ্দিন। সংসদ আহ্বানের জন্য রাষ্ট্রপতিকে এ ধরনের চিঠি দেওয়ার এখতিয়ার বিরোধীদলীয় নেতার আছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বিরোধীদলীয় নেতা স্পিকারের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে পারেন। কিন্তু যেই চিঠি দেওয়ার এখতিয়ারই নাই, সেই চিঠির জবাব কীভাবে দেওয়া হবে?”

বিরোধী দল যে সময় বিশেষ অধিবেশন চেয়েছিল, তার এক সপ্তাহ পরই নিয়মিত অধিবেশন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ছিল বলেও মত দেন তিনি।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে শত শত কারখানা বন্ধ হওয়ার বিরোধী দলের অভিযোগের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কোথায় কারখানা বন্ধ হয়েছে, কয়টা বন্ধ হয়েছে গ্যাসের কারণে, বিদ্যুতের কারণে তা তথ্যসহ সংসদে তুলে ধরতে হবে।”

বৈশ্বিক সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় আমদানিকারক অনেক দেশে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে। তবে বাংলাদেশে তেল-গ্যাসের দাম দ্বিগুণ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, “সরকার ১৭ বছরের অপরিকল্পিত গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা সংশোধনের চেষ্টা করছে। কোথায় এফএসআরইউ হবে, কোথায় গ্যাসভিত্তিক ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হবে, তা নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছে।”

জরুরিভিত্তিতে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করার পরিকল্পনার কথাও বলেন তিনি। এসব পরিকল্পনার উদ্দেশ্য উৎপাদনশীলতা যাতে ব্যাহত না হয় এবং তার প্রভাবে দ্রব্যমূল্য যাতে না বাড়ে, তা নিশ্চিত করা বলে দাবি করেন সালাহউদ্দিন।

গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়েও বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যে আদেশ জারি হয়েছিল, তার কোনো রাজনৈতিক ভিত্তি বা রাজনৈতিক সমঝোতা ছিল না। ওই আদেশ জারির এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির ছিল কি না, সে প্রশ্নও রয়েছে।”

তবে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের মত নেওয়ার পক্ষে সরকারি দলও ছিল বলে দাবি করেন তিনি। সালাহউদ্দিন বলেন, “সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলকে অংশ নিতে বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিরোধী দলের কোনো সংশোধনী প্রস্তাব থাকলে সেটি সংসদীয় কমিটিতে এসে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।”

বিরোধী দলকে সংসদে ফিরে আসার আহ্বান করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই সংসদকে যদি আমরা কার্যকর করতে না পারি তাহলে গণতন্ত্রে বারবার হোচট খাবে।

“সরকারি ও বিরোধী দলকে সব ইস্যুতে সংসদেই আলোচনা করতে হবে। আসুন জনগণের সামনে আমরা এমন একটা পার্লামেন্ট স্থাপন করি, যে পার্লামেন্টের সরকারি দল, বিরোধী দল এখানেই বাহাস করবে, এখানেই আমরা তর্ক-বিতর্ক করব, এখানেই আমরা সমাধান করব।”

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com