বাংলা হেডলাইনস: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন বাংলাদেশ এবং বাঙালি জাতি মাথা উঁচু করে বিশ্বে চলবে।
‘চলুন আজকের দিনে আমরা সেই প্রত্যয় নেই । বাংলাদেশ কারও কাছে মাথা নত করে না। বাংলাদেশ এবং বাঙালি জাতি মাথা উঁচু করে বিশ্বে চলবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন সেই সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবো’ , প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শুক্রবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের ক্ষণ-গণনার শুভ সূচনার প্রাক্বালে এক ভাষণে এই আহ্বান জানান। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর বছরব্যাপী জন্মশতবার্ষিকীকে ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজধানীর তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে এই ক্ষণ-গণনার অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা, বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ এবং বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষণ-গণনার বর্ণিল উদ্বোধনের সাথে মিল রেখে সারাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের ক্ষণ-গণনার উদ্বোধন করা হয়।

আজ ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে এই ক্ষণ-গণনার শুরু হয় ১৭ মার্চ জাতির পিতার শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের জন্য। তেজগাঁয়ের পুরাতন বিমানবন্দরে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিমানে স্বাধীন মাতৃভূমি বাংলাদেশ ফিরে আসেন। সেই দিনের প্রত্যাবর্তনের আলোকে একটি রেপ্লিকা প্রদর্শন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা ও ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে তাঁর দুই পাশে রেখে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের ক্ষণ গণনার শুভ সূচনা ঘোষণা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন আমাদের দুর্ভাগ্য পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী চেষ্টা করেও যাকে (বঙ্গবন্ধু মুজিব) হত্যা করতে পারেনি তাঁকেই জীবন দিতে হয়েছিল বাংলার মাটিতে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে। যখন তিনি আমাদের বাংলাদেশ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে গড়ে তুলে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আর সেই হত্যাকাণ্ড শুধু সেখানেই না, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলা হয়েছিল, জয় বাংলা শ্লোগান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, জাতির পিতার ৭ই মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
শেখ হাসিনা বলেন আজকে সেই ভাষণ বিশ্বের প্রামাণ্য দলিলে ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃতি পেয়েছে। আমাদের জন্য একটা অন্ধকার সময় ছিল। কিন্তু আজকে সেই অন্ধকার সময় কাটিয়ে আমরা আলোর পথে যাত্রা শুরু করেছি। জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ্ গড়ে তুলবো। সেটাই আমাদের প্রত্যয় । তিনি এদেশের মানুষকে গভীরভাবে ভালবেসেছেন, চেয়েছিলেন এদেশের মানুষ সুন্দর জীবন পাবেন।
তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তান কারাগার থেকে যখনই তাঁকে বিচারের জন্য কোর্টে নিয়ে যাওয়া হতো তখনই তিনি জয় বাংলা শ্লোগান দিতেন। বাংলাদেশের জনগণ এই জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে অকাতরে জীবন দিয়ে গেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন বিজয় আলোর বর্তিকা তিনি (বঙ্গবন্ধু) আমদের হাতে তুলে দিয়েছেন। সেই মশাল নিয়েই আমরা আগামী দিনে চলতে চাই। বাংলাদেশকে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত,দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে গড়তে চাই। এই বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে চলবে, সম্মানের সাথে চলবে। মাঝখানে একটা কালো অধ্যায় আমাদের জীবন থেকে চলে গেছে। সেই কালো অধ্যায় আর যেন কোন দিন দেশের মানুষের উপর ছায়া ফেলতে না পারে।
শেখ হাসিনা বলেন আমাদের দেশের মানুষ যেন জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে মর্যাদার আসনে অধিস্ঠ করতে পারে।