বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধিঃবাংলাদেশ ব্যাংকের বাতিল নোটের টুকরা ডাম্পিং স্টেশনের পরিবর্তে বিলের পানিতে ফেলে দেয়ায় বগুড়া পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার তিন কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে। বুধবার সকালে মেয়র অ্যাডভোকেট মাহবুবর রহমান এ আদেশে স্বাক্ষর করেন। ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে। মেয়র এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, ভাড়া নেয়া ওই ট্রাকের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।
শোকজ করা কর্মকর্তারা হলেন-বগুড়া পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার পরিদর্শক মামুনুর রশিদ মামুন, একই শাখার ভারপ্রাপ্ত সুপারভাইজার আমিনুল ইসলাম ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা রাখিউল আবেদীন। জানা গেছে, মঙ্গলবার বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের বড় চান্দাই জালশুকা গ্রামের খাউড়ার বিলে বিপুল পরিমাণ টাকার নোটের টুকরা পড়ে থাকতে দেখা যায়। গ্রামবাসীরা টের পেলে হুলস্থুল পড়ে যায়। শুধু আশপাশের নয়; শহর থেকে শত শত মানুষ নোটগুলো দেখতে ভিড় করেন। প্রচার হয় বগুড়ার অবৈধ পথে কোটিপতিরা প্রশাসনের হাত থেকে বাঁচতে নোটগুলো কেটে বিলে ফেলে গেছে। মুহুর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুরো জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে শাজাহানপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। শাজাহানপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হন যে, নোটগুলো ব্যাংকের এবং ২৪০ বস্তা ডাম্পিং করতে বগুড়া পৌরসভাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।
বগুড়া পৌরসভার সচিব রেজাউল করিম জানান, পৌর এলাকার বর্জ্য ফেলার জন্য শহরতলীর বাঘোপাড়া এলাকায় ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিদিন পৌরসভার নিজস্ব ট্রাক ছাড়াও ভাড়া নেয়া ১২টি ট্রাকে বর্জ্য সেখানে ফেলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্জ্যগুলোও ওই ডাম্পিং সেন্টারে ফেলানোর কথা ছিল। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মীদের গাফিলতির কারণে ভাড়া ট্রাকের চালক মাসুম নিজের বাড়ির কাছে ওই বিলে এক ট্রাক বর্জ্য ফেলে দেয়। তিনি আরো জানান, মেয়র বিষয়টি জানার পর মঙ্গলবার রাতেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের তিন কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে
শোকজ করেন। বুধবার সকালে তাদের লিখিতভাবে সিদ্ধান্ত জানানো হয়।