বাংলা হেডলাইনস: দেশে মরণঘাতী কোভিড-১৯ মোকাবেলায় যারা শুরু থেকে সাহসের সাথে কাজ ও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তাদের জন্য বিশেষ ইন্সুরেন্সের প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
যারা দায়িত্ব পালনকালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হবে তাঁদের চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা সরকার নেবে এবং তাদের জন্য ৫ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পদ মর্যাদা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবীমা করে দেওয়া হবে।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধীনে জেলা সমূহের সকল স্তরের প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে করোনা মোকাবেলার কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন যে সকল সরকারি চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী কোভিড-১৯ সংক্রমণের শুরু থেকেই চিকিৎসা সেবা প্রদানে প্রতক্ষ্যভাবে কাজ করছেন, তাদের পুরস্কৃত করার জন্য তালিকা তৈরির করার জন্য আমি ইতিমধ্যে নির্দেশ দিয়েছি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
তিনি বলেন যারা এই ধরণের সাহসী স্বাস্থ্যকর্মী তাদের আমাদের উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন। উৎসাহের সাথে সাথে বিশেষ সম্মানী দিতে চাই।
শেখ হাসিনা বলেন কোভিড-১৯ প্রতিরোধে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্য, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং প্রতক্ষ্যভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্তের অন্যান্য কর্মচারীরগণের জন্য আমরা একটা বিশেষ ইনস্যুরেন্স করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি বলেন দায়িত্ব পালন কালে কেউ যদি কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয় তার চিকিৎসার জন্য সব ব্যাবস্থা সরকার নেবে এবং তাদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা করে দেবো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন যারা আক্রান্ত হয়েছে তাদের জন্য ৫ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা অর্থাৎ পদ মর্যাদা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবীমা করে দেব। ইতিমধ্যে যারা করোনায় মৃত্যুবরণ করেছে বা ঝুঁকিতে আছে বা যদি মৃত্যুবরণ করে তাদের ৫ গুন বৃদ্ধি করে দেব।
শেখ হাসিনা বলেন সামাজিক সুরক্ষার কর্মসূচি বেষ্টনীর বাইরে এই করোনা পরিস্থিতিতে যাদের উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে যারা হাত পাততে পারবে না, চাইতে পারবে না, মুখ বুজে কষ্ট সহ্য করে থাকে তাদের ঘরে খাদ্য পৌঁছে দিতে হবে।
তিনি ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত প্রশাসন ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি সকলে মিলে এই শ্রেণীর মানুষের সঠিক তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেন। তারা যাতে ১০ টাকা কেজি চাল কিনে খেতে পারে এই জন্য এই কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে। তাদের রেশন কার্ড করে দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন এপ্রিল মাসে দেশে করোনা ভাইরাস ব্যাপকভাবে আসার আলামত পাওয়া যাচ্ছে। কাজেই সেই অবস্থায় আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। আমি বিশ্বাস করি সামনে যে আশংকাটা দেখা যাচ্ছে সেটাও আমরা মোকাবেলা করতে সক্ষম হবো তবে সকলে যদি একটু সচেতন থাকি।