বাংলা হেডলাইনস, শফিক সরকার, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: দুই বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় বিধ্বস্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও কালভার্ট পুণনির্মাণ না হওয়ায় জনসাধারণের যাতায়াতের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। স্থানীয় উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো দিয়ে কোনমতে মানুষ চলাচল করলেও যানবাহন ও পণ্য পরিবহনে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় এলজিইডি অফিস সেতু ও কালভার্ট পুণর্নিমাণের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় হতাশ এলাকার মানুষ।
২০১৭ সালে কুড়িগ্রাম সদরসহ কয়েকটি উপজেলায় ভয়াবহ বন্যার কারণে বেশ কিছু সেতু ও কালভার্ট বিধস্ত হয়। ফলে ভেঙে পড়ে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। গত দু’বছরে এলজিইডির উদ্যোগে ২৫টি সেতু ও কালভার্ট পুণর্নিমাণ করা হলেও গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সেতু এখনও বিধবস্ত হয়ে পড়ে আছে। ফলে স্কুল, কলেজ ও হাট-বাজারগামী মানুষসহ অন্যদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের মানুষ। অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স ও পণ্য পরিবহনেও। বর্ষা মৌসুমের আগে ব্রিজগুলো পুণনির্মাণ না হওয়ায় ভোগান্তি আরো বাড়ার আশঙ্কা এলাকাবাসীর।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের সানেরঘাট সেতুটি ২০১৭ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যায় ভেঙে যায়। এরপর থেকে বিধবস্ত হয়ে পড়ে আছে সেতুটি। দু’পাশে কোন প্রতিবন্ধক না থাকায় হঠাৎ অচেনা মটরসাইকেল আরোহী সেতু পার হয়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত দু’বছরে অনেক দেনদরবার করেও ব্রিজ নির্মাণে কোন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছেনা। এলজিইডি ব্রিজ নির্মাণের জন্য বারবার আশ্বাস দিলেও কাজ হচ্ছেনা।
নেফারদরগা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজনুর রহমান বলেন, ‘আমাদের যাতায়াতের জন্য একটি মাত্র রাস্তা। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হচ্ছি।’ সেতুর পাশর্^বর্তি আহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘যে সেতু দিয়ে দিনে হাজার হাজার মানুষ পার হতো। দু’ বছরেও তা পূণর্নিমাণ না হওয়ায় মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই।’
একই অবস্থা কুড়িগ্রাম-রাজারহাট সড়কের বড় পুলের পার সংলগ্ন একটি কালভার্টের। সরেজমিন দেখা গেছে কালভার্টটি বন্যায় ভেঙে পড়ে আছে। ফলে এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলজিইডি মাপজোক করে কিন্ত কোন উদ্যোগ নেয়না।
নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার-কচাকাটা সড়কের শকুনটারি ব্রিজ, নাগেশ্বরী-বামনডাঙা সড়কের ধনিটারি ব্রিজ ও সন্তোষপুর-তালেবেরহাট সড়কের নাওডাঙা ব্রিজসহ বেশ কয়েকটি ব্রিজ ভেঙে পড়ে আছে। এতে করে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তিতে পড়েছে।
কুড়িগ্রাম এলজিইডি সুত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের বন্যায় এলজিইডি’র ৭৭টি পাকা সড়কের ৬২ কিলোমিটার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ভেঙে যায় ৩৭টি ব্রিজ ও কালভার্ট। ফলে অনেক এলাকা জেলা ও উপজেলা সদরের সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বন্যায় বিধবস্ত সড়ক ও ব্রিজ পর্যায়ক্রমে পুণনির্মাণ করা হচ্ছে। গত দু’বছরে ১৩টি ব্রিজ ও ১২টি কালভার্ট পূণর্নিমাণ ও মেরামত করা হয়। আর ডিজাইন করা হচ্ছে আরো প্রায় ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যরে ৭টি ব্রিজের।
কুড়িগ্রাম এলজিইডির জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আব্দুল আজিজ বলেন,২০১৭ সালের বন্যায় কুড়িগ্রাম জেলায় রাস্তার যে ক্ষয়ক্ষতি হয়, তার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ এ্যাপ্রোচ রোড তাৎক্ষনিকভাবে মেরামত করা হয়। এপর্যন্ত ১৩টি ব্রিজ-কালভার্টের নির্মাণ শেষ হয়েছে। ১২টি চলমান রয়েছে। বাকীগুলির ডিজাইন চলছে। আশা করা যায় স্বল্প সময়ে এসব ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ সম্ভব হবে।’