বাংলা হেডলাইনস: জাতীয় সংসদে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা এবং তাদের প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা শেষ হওয়ার পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের নোটিসে এ বিষয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়।
সরকার ও বিরোধী দল মিলে একটি যৌথ বা ‘কমন কমিটি’ করে তথ্য যাচাই, বাস্তবতা মূল্যায়ন এবং সমাধানের পথ বের করার প্রস্তাব দেন তিনি।
বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে মেনে নেন সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা।
তবে এই পরিস্থিতিকে ‘তীব্র সংকট’ বলা হবে, নাকি ‘কৃত্রিম’ পরিস্থিতি বলা হবে, সে প্রশ্নে মতপার্থক্য ছিল। জ্বালানিমন্ত্রী এ পরিস্থিতিকে ‘সংকট’ বলতে নারাজ।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত অচল হয়ে যায়। এর প্রভাবে দেশের জ্বালানি তেল সরবরাহে চাপ বাড়তে থাকে।
সরকার রেশনিংসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে তেলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। সংকট সামাল দিতে বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানির মধ্যে সরকার দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়।
অবশেষে শনিবার (১৮ এপ্রিল) ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম ১০ শতাংশের বেশি বাড়ায় সরকার। এরপর জ্বালানি সরবরাহও বাড়ানো হয়, কিন্তু পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি।
এ অবস্থায় জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৬৮ বিধিতে নোটিস দেন বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।
জ্বালানি সংকট নিরসনে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ দাবি করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, তাদের কিছু প্রস্তাব আছে, যেগুলো সরকারকে তারা দিতে চান।
বিরোধীদলীয় নেতার নোটিসের ওপর আলোচনায় অংশ নেন বিরোধী দল ও সরকারি দলের মোট আটজন সদস্য।
আলোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অবশ্যই আমরা বিরোধী দলকে আমন্ত্রণ জানাবো আমাদের অবস্থান থেকে। আমরা বসবো, আমরা আলোচনা করবো, আমরা ওনাদের প্রস্তাব দেখবো। যদি ওনাদের প্রস্তাবে বাস্তবতার নিরিখে যদি কোনো কিছু থাকে, যেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব, অবশ্যই আমরা তা করবো।”
তিনি বলেন, “আমরা যে যেই অবস্থানেই, যে এই ফ্লোরে যেদিকেই বসি না কেন, বাংলাদেশের মানুষ আমাদেরকে এখানে পাঠিয়েছে তাদের স্বার্থ দেখার জন্য। কাজেই বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ দিয়ে আলোচনা করলে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হবে। যে কাজ করলে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হবে, ইনশাআল্লাহ আমরা অবশ্যই সে কাজ করব।”
তবে ‘কমন কমিটি’ গঠনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি কিছু বলেননি।
আলোচনা শেষে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সংসদের বৈঠক বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত মুলতবি করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের নোটিসে কারণ হিসেবে বলা হয়, সারা দেশে জ্বালানি তেলের ‘তীব্র সংকট’ চলছে; পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মানুষ জ্বালানি পাচ্ছে না। এতে জনজীবনে ‘বহুমাত্রিক সংকট’ দেখা যাচ্ছে।
প্রারম্ভিক বক্তব্যে তিনি বলেন, এই সংকট শুধু বাংলাদেশের একক বিষয় নয়, এটি একটি বৈশ্বিক বিষয়। বাংলাদেশ এর জন্য দায়ী না হলেও এর ভুক্তভোগী।
তার ভাষায়, চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের মিল না থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
জামায়াত আমির বলেন, “এটা শুধু পরিবহনের ক্ষেত্রে নয়, দেশের সর্বক্ষেত্রে, যেখানেই জ্বালানির সম্পৃক্ততা রয়েছে, মিল, কারখানা, শিল্প, কৃষি থেকে শুরু করে সর্বত্রই এই সমস্যা। তাই বিষয়টি আলোচনার সবিশেষ দাবি রাখে।”
পরে তিনি বলেন, ৩০০ বিধিতে মন্ত্রীর আগের বিবৃতি এবং পরের ব্যাখ্যার মধ্যে ‘বড় পার্থক্য’ আছে।
তার ভাষায়, প্রথম দিনের বক্তব্যে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে দেশে জ্বালানির সংকট নেই, বরং আগের চেয়ে সরবরাহ বেশি; কেবল কোথাও ‘ম্যানিপুলেশন’ হচ্ছে। কিন্তু পরের ব্যাখ্যায় এসে সরকার কার্যত রেশনিং ও ব্যবস্থাপনার সমস্যার কথা ‘স্বীকার’ করছে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, পাম্পে গিয়ে তিনি দেখেছেন অনেকে পাঁচ ঘণ্টা, অনেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন। কেউ গাড়ির পাশে চাটাই বিছিয়ে শুয়ে আছেন। কারও কারও মৃত্যুর ঘটনাও তিনি সংসদে তোলেন।
তার ভাষায়, আগে যারা দৈনিক দেড় থেকে দুই হাজার টাকা আয় করতেন, তারা এখন ৫০০ টাকাও করতে পারছেন না।
পেশাদার চালক, বাইকার, কম আয়ের মানুষ এবং যারা তেল কিনে কাজ করে সংসার চালান, তাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, “নিরীহ মানুষগুলোই বেশি, মতলববাজ খুবই কম।”
তিনি বলেন, মতলববাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, কিন্তু নিরীহ মানুষকে এক কাতারে ফেলা যাবে না।
“মতলববাজ যেই হোক তাকে যেন ছেড়ে দেওয়া না হয়, আর নিরীহ মানুষকে যেন আর কষ্ট দেওয়া না হয়।”
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এই সংকট সরকারের তৈরি না হলেও ‘ডিমান্ড ম্যানেজমেন্টে’ সমস্যা হয়েছে।
তার মতে, সরকার ও বিরোধী দল মিলে একটি যৌথ বা ‘কমন কমিটি’ করে তথ্য যাচাই, বাস্তবতা মূল্যায়ন এবং সমাধানের পথ বের করলে মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হতো।
তিনি বলেন, “আমাদের কিছু প্রপোজাল আছে। আমরা আপনাদের হাতেই তুলে দেবো। কারণ এক্সিকিউশন হবে আপনাদের মাধ্যমে। আমরা শুধু পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতে পারি। বাস্তবায়নটা করতে হবে সরকারকে।”
বিরোধীদলীয় নেতার নোটিসের ওপর প্রথমে বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্যে ঘিরে সংঘাত শুরুর পর এবং হরমুজ প্রণালী কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বাংলাদেশের আমদানি করা জ্বালানির বড় অংশ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসে, ফলে বাংলাদেশও এর চাপে পড়ে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের সময় দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ছিল মাত্র সাত দিনের। তবে দ্রুত সংগ্রহ, সরবরাহ পুনর্বিন্যাস, বিকল্প উৎস অনুসন্ধান এবং মাঠপর্যায়ের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এখন মে মাস পর্যন্ত জ্বালানির চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করা গেছে। জুন ও জুলাইয়ের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর ডিজেলের দাম ১৪২ দশমিক ৭৩ শতাংশ, অকটেন ৭২ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং জেট ফুয়েল ১৪৩ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়েছে।
পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশেও জ্বালানির দাম অনেক বেশি হারে বাড়ানো হয়েছে বলেও প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন।
বাংলাদেশে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ১০ থেকে ১৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে তুলে ধরে অমিত বলেন, যুদ্ধের পর প্রথম ৪৫ দিন সরকার মূল্য সমন্বয় করেনি। কারণ তখন সেচের মৌসুম চলছিল, আর সরকার কৃষকদের কথা বিবেচনায় নিয়েছিল। পরে ১৪ এপ্রিলের পর সেচের চাপ কমতে শুরু করলে ‘বাস্তবতার নিরিখে’ মূল্য সমন্বয় করা হয়।
তার দাবি, দাম না বাড়ালে কৃষকদের ভর্তুকির সার, বীজ, কীটনাশক, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যের ওষুধ, এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য ঘোষিত পোশাক ও ব্যাগের মতো কর্মসূচিও বাধাগ্রস্ত হতো।
পেট্রোল পাম্পের লাইনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অকটেন ও পেট্রোল মোট জ্বালানি চাহিদার তুলনায় ছোট অংশের প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে শুধু লম্বা লাইন দেখে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না।
এরপর তিনি বিভিন্ন পত্রিকার কাটিং পড়ে শোনান, যেখানে পাবনা, নাটোর, নীলফামারী, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন জেলায় তেল মজুদ, কালোবাজারি, পাচার এবং অনলাইনে বিক্রির খবর প্রকাশ হয়েছে। তার বক্তব্য, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ‘ইনফরমাল মার্কেট’ তৈরি হয়েছে।
সরকার দায় এড়াতে চায় না, বরং সমাধানে এগোতে চায় তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক চলছে; শনিবারও বৈঠক রয়েছে।
‘ফুয়েল পাস’ চালু করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ে এ ব্যবস্থাপনায় সুফল মিলেছে। আরও বিস্তৃত বাস্তবায়নে পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলেও তার বিশ্বাস।
শেষদিকে কিছুটা রসিকতার সুরে অমিত বলেন, যশোরে বিরোধীদলীয় নেতার কাছ থেকে ডাবের পানি খেয়ে আপ্যায়ন পেয়েছিলেন। তারপর বলেন, অভিযোগ নয়, সমাধানই এখন মূল বিষয়।
সমাপনী বক্তব্যে বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, দেশে জ্বালানির পরিস্থিতি ‘সংকট’ নয়, বরং ‘একটা আর্টিফিশিয়াল সংকট’।
তিনি সংসদে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের মজুদের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল, জেট ফুয়েল, মেরিন ফুয়েল এবং ফার্নেস ফুয়েলের পর্যাপ্ত মজুদ আছে।
মন্ত্রী দাবি করেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “আপনারা যে লাইনটা দেখছেন, এই লাইনটাকে আমি ‘ন্যাচারাল’ লাইন বলি না। এটা ‘আর্টিফিশিয়াল’ লাইন।”
জ্বালানিমন্ত্রীর মতে, অসৎ উদ্দেশ্যে কিছু লোক লাইনে দাঁড়িয়ে এবং পরে ‘ইনফরমাল মার্কেটে’ তেল বিক্রি করছে। ফলে প্রকৃত ভোক্তারা বিপাকে পড়ছেন।
তিনি বলেন, “আমরা যত তেল দেওয়ার দরকার তাই দিয়ে যাচ্ছি।”
এই লাইন আসলেই প্রকৃত প্রয়োজনের, নাকি বাড়তি মুনাফার জন্য তৈরি, তা তদন্ত করতে মন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
এলপিজির দাম বাড়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় একটি আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে এ খাত পুরোপুরি বেসরকারি হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল; সরকার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে না, এনার্জি কমিশন শুনানির মাধ্যমে দাম নির্ধারণ করে।
আরেকটি বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, আগের সরকারের ‘ইন্ডেমনিটি’ ধরনের ক্রয়ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে; এখন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ক্রয়ে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল’ মেনে চলতে হয়।
প্রধানমন্ত্রী জনবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না, বলেন তিনি।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সরকার চাইলে আরও কঠোর কিছু পদক্ষেপ নিতে পারত, যেমন অফিস-স্কুল বন্ধ রাখা বা চলাচলে বিধিনিষেধ; কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সেসব জনবিরোধী মনে করে নেননি। সে কারণেই সরকার ‘লিবারেল’ অবস্থানে থেকে সংকট সামলাতে চেয়েছে।
বিরোধী দল ও সরকারি দলকে একসঙ্গে ‘অবৈধ লাইনের’ বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও বলেন, তিনি একে ‘সংকট’ বলতে চান না। তার মতে, জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হলেও চাষাবাদ, কলকারখানা, স্কুল-কলেজ বা ব্যবসা-বাণিজ্য কোথাও বন্ধ হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোথাও কোথাও কালোবাজারি, মজুদদারি ও পাচারের চেষ্টা হয়েছে, তবে এগুলো উদঘাটনও করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বাহিনীগুলো।
তার ভাষায়, “কালোবাজারির পরিচয় কালোবাজারি, দুষ্কৃতিকারীর পরিচয় দুষ্কৃতকারী।”
সালাহউদ্দিন বলেন, এই বিষয়ে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলকে দায়ী করতে চান না। আগের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়ার পক্ষে নন তিনি।
তিনি বলেন, প্রতিদিন পেট্রোল পাম্প, ডিপো ও মাঠপর্যায়ে নজরদারি হয়েছে; ডিসি-এসপিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে; সকাল-বিকাল মনিটরিং হয়েছে। কোথাও অনিয়ম হচ্ছে কি না, তা দেখা হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় তুলনামূলক কম দামের পণ্য পাচারের প্রবণতা ‘মানবিক প্রবণতা’ বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। যদিও তা তিনি সমর্থন করেন না।
তবে তার দাবি, ব্যতিক্রমী কিছু ঘটনা ছাড়া জ্বালানি তেল বা সিলিন্ডার বড় আকারে পাচার হতে দেওয়া হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, বর্তমান অবকাঠামো ও জনবল নিয়ে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। পুলিশকে ‘মোরালি স্ট্রং’ ও ‘পাবলিক ফ্রেন্ডলি’ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ চলছে।
চট্টগ্রামের সলিমপুর এলাকা এবং সুন্দরবন অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কথাও বলেন তিনি।
তার ভাষায়, সরকার এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়, যাতে বাংলাদেশ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণেও ‘দৃষ্টান্ত’ হতে পারে।
একই সঙ্গে তিনি সংসদকেই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখার কথা বলেন।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সদস্য মাসুদ পারভেজ বলেন, তাদের কৃষিপ্রধান এলাকায় বোরো মৌসুমে ডিজেল সংকট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অনেক কৃষক ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার গিয়ে দুই লিটার তেল এনে সেচ চালিয়েছেন। ‘ফুয়েল পাস’ চালু করেও লাইনের খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
তার অভিযোগ, একদিন মজুদ নিয়ে আশ্বস্ত করার পরই সরকার দাম বাড়ায়। কিন্তু দাম বাড়ার পরও লাইনের পরিবর্তন হয়নি। কালোবাজারি ঠেকাতে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তাও স্পষ্ট নয়।
এলপিজির দাম বৃদ্ধির ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে দাবি করে এই সদস্য সদস্য বলেন, চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকায় সবজি পরিবহন খরচ বেড়েছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অবনতি, ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং, শিল্প-কারখানা, শিক্ষা ও কৃষিতে প্রভাবের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
কুড়িগ্রাম-২ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মোজাহিদ বলেন, এই সংকটে সরকার আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ-দুই দিকেই ব্যবস্থাপনার ঘাটতিতে পড়েছে।
তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের পর বাংলাদেশের প্রথম প্রতিক্রিয়া ‘ইমব্যালান্সড’ ছিল, যা কূটনৈতিকভাবে সঠিক হয়নি।
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্বের কথা তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘সঠিক কূটনীতি’ না থাকলে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তার মতে, তেলের মজুদ নিয়ে সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে মাঠের বাস্তবতা না মেলায় মানুষের আস্থা কমেছে। “প্যানিক বায়িং থিওরি’ এক মাসের বেশি টেকে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মোজাহিদ মনে করেন, সরকার ও বিরোধী দল মিলে একটি জাতীয় সংকট কমিটি করে তথ্য যাচাই করে জাতির সামনে উপস্থাপন করতে পারত। তাতে মানুষ আস্থা পেত।
ঢাকা-১২ আসনের জামায়াতের ইসলামীর সদস্য সাইফুল আলম বলেন, জ্বালানি ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এত কথা বলছেন যে মনে হচ্ছে এটি তারই বিষয়। তিনি অভিযোগ করেন, বাস্তবে তেলের সরবরাহ আগের এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে।