বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার ধুনটে খাবার প্রলোভনে চার শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে মুখ চেপে ধরে যৌণ লালসা চরিতার্থ (ধর্ষণ) করার অভিযোগে জয়নাল আবেদীন (৫৫) নামে এক রিকশা ভ্যান চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে ধুনট থানা পুলিশ তাকে গোপালপুর খাদুলি গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি চার শিশুকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে। গত ৬ ও ৮ সেপ্টেম্বর পৃথক ওই ধর্ষণের ঘটনায় দুই শিশুর বাবা থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। শেরপুর ও ধুনট সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান এর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বুধবার চার শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষা ও তাদের আদালতে নিয়ে ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করানো হবে। এছাড়া অভিযুক্ত জয়নাল আবেদীনকেও আদালতে সোপর্দ করা হবে। সে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি না দিলে তাকে রিমান্ডে নিয়ে আরো কতজন শিশুকে ধর্ষণ করেছে তার তথ্য বের করা হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান জানান, ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের গোপালপুর খাদুলি গ্রামের মৃত ফজর আলীর ছেলে জয়নাল আবেদীন পেশায় ভ্যান চালক। বাড়িতে স্ত্রী ছাড়া আর কেউ থাকেনা। জলপাই গাছ থাকায় প্রতিবেশি ৭ থেকে ১০ বছরের শিশুরা তা খাবার লোভে জয়নালের বাড়িতে আসতো। কোন শিশু বাড়িতে এলে সে তাকে জয়পাই ও অন্যান্য খাবার দেবার প্রলোভনে ঘরে নিয়ে যেতো। এরপর সে মুখ চেপে ধরে শিশুদের সাথে যৌণ লালসা চরিতার্থ করে। এর ধারাবাহিকতায় জয়নাল একই কায়দায় গত ৬ ও ৮ সেপ্টেম্বর চার শিশুকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। এদের মধ্যে দুই শিশুর গোপনাঙ্গ থেতলে যাওয়ার কারণে তারা ঠিকমত হাঁটতে পারছিল না। তারা ভয়ে এ কথা বাড়িতে বলেনি। চাপের মুখে এক শিশু তার নানীর কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে। এ নিয়ে চারটি শিশুর পরিবারে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি ধুনট থানায় জানানো হলে মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে পুলিশ জয়নাল আবেদীনকে বাড়ি
থেকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে জয়নাল শুধু চার শিশুকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। চার শিশুর মধ্যে দু’জনের বাবা মামলা করতে রাজি হয়েছেন।মঙ্গলবার বিকালে তারা থানায় এসে পৃথক দুটি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
পুলিশ কর্মকর্তার ধারনা, শিশু ধর্ষণ জয়নাল আবেদীনের নেশায় পরিণত হয়েছে। শিশুদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে একজন গাইনোকোলজিষ্টকে দেখালে তিনি পরীক্ষা করে তাদের ধর্ষণের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।