বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়া নন্দীগ্রামে মিষ্টি খাওয়ানোর প্রলোভনে বাড়িতে ডেকে নিয়ে তৃতীয় শ্রেণীর মাদ্রাসা ছাত্রীকে (১২) ধর্ষণ ও ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ ঘটেছে। শনিবার সকালে উপজেলার থালতা মাঝগ্রামে এ ঘটনায় জনগণ বাড়ি ঘেরাও করে ওই মাদ্রাসার দপ্তরী আলমগীর হোসেন বাবলু গায়েনকে (৪৫) আটক করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেফতার ও ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে। বিকালে ছাত্রীর বাবা নন্দীগ্রাম থানায় মামলা করেছেন।
নন্দীগ্রাম থানার ওসি শওকত কবির জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দপ্তরী বাবলু ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। রোববার সকালে তাকে আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করা হবে। এছাড়া ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ছাত্রীকে হাসপাতালে এবং ২২ ধারায় জবানবন্দি নিতে আদালতে নেয়া হবে।
কুমিড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আজিজুর রহমান ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা মাঝগ্রামের মৃত আকবর আলী গায়েনের ছেলে আলমগীর হোসেন বাবলু গায়েন স্থানীয় এমএ সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার দপ্তরী। একই গ্রামের ওই ছাত্রী শনিবার সকাল ১০টায় মাদ্রাসায় যায়। দ্বিতীয় পিরিয়ডে অসুস্থতাবোধ করলে সে ওষুধ নিতে পাশেই কমিউনিটি ক্লিনিকের দিকে রওনা হয়। পথিমধ্যে দপ্তরী বাবলু গায়েনের সাথে দেখা হলে সে তাকে জানায়, নাতি হয়েছে এ জন্য মিস্টি খাওয়াবে। ছাত্রী বিশ্বাস করে তার সাথে বাড়িতে যায়। কেউ না থাকায় বাবলু গায়েন মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর তাকে ঘরে আটকে রাখে। এক পর্যায়ে ছাত্রী চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন টের পেয়ে বাড়ি ঘেরাও করেন। এরপর তারা বাবলু গায়েনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দপ্তরী বাবলু গায়েনকে গ্রেফতার ও ছাত্রীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আইয়ুব আলী জানান, দপ্তরী বাবলু গায়েনের নাতি হয়েছে। এ জন্য সে মিস্টি কেনার কথা বলে মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। এরপর সে তাদের মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে। থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল মতিন ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।