ছাত্র রাজনীতির ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে একসাথে অপসারণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনকে আলোড়িত করেছে।
ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন
ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে গতকাল শনিবার রাতে তাদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১১ মাস আগেই অব্যাহতি দেওয়া হয়।
গোলাম রাব্বানী মার্চে অনুষ্ঠিত ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয় ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবে।
ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে, রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন তারা আশা করেন ছাত্রলীগের যদি কোন ইমেজ সংকট হয়ে থাকে তা তারা অচিরেই উত্তরণ করবে। নাহিয়ান খান জয় দাবি করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না।ছাত্রলীগ চাঁদাবাজ,টেন্ডারবাজ এইরকম কাউকে প্রশ্রয় দেয় না।সুতরাং আমরা যদি কোন প্রমাণ পাই কেউ চাঁদাবাজি করছে ছাত্রলীগের দুর্নাম করছে সাথে সাথে ব্যাবস্থা নেব।
ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বিশেষ করে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে মিছিল করে।পদবঞ্চিতরা আশা করে নতুন নেতৃত্ব তাদেরকে মূল্যয়ন করবে। এদিকে যারা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে রয়েছে তাদের কেউ কেউ নাহিয়ান এবং রাব্বানীর অপসারণে নেতিবাচক বা ইতিবাচক মন্তব্য করতে চাননি।বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা সৎ নেতৃত্বের উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন দুর্নীতিবাজ ছাত্রনেতৃত্ব পুরো ছাত্রসমাজের উপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ছাত্রলীগের কর্মী সমর্থকরা মন্তব্য করেন নাহিয়ান ও রাব্বানির অপসারণ সবার জন্য একটি মেসেজ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রবিবার গোলাম রাব্বানীর ডাকসুর জিএস পদে থাকবে কি থাকবেনা এমন প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের জানান ডাকসুর গঠনতন্ত্র এবং ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র আলাদা।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতা ফ্লাইওভার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান তাদের (নাহিয়ান-রাব্বানী) বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে। এভাবে একটা সংগঠনের কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি দেওয়া বা পদত্যাগ করতে বলা এটা একটা বিরাট সাংগঠনিক পদক্ষেপ।তাদেরকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এরকম একটি বড় পদক্ষেপ এদেশে কখন কোন সংগঠনে ঘটেনি।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগকে ইঙ্গিত করে বলেন একটি সংগঠনের প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারিকে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দেশের প্রধানমন্ত্রী তাকে তাদেরকে বহিষ্কার করতে হয়েছে।এতে প্রমান করে দুর্নীতি কোন পর্যায়ে চলে গেছে।
শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্রলীগের বিরাজমান যে কমিটি আছে সেই কমিটি থাকবে। এই কমিটির শুধুমাত্র সভাপতির জায়গায় এক নম্বর সহ-সভাপতি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসাবে ও এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি বলেন সভাপতি ও সম্পাদককে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পদে হিসেবে দায়িত্ব পান যথাক্রমে সংগঠনটির এক নম্বর সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।