শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০১:০৯ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না: প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৮ সালে জন্ম নেওয়া বিএনপি কীভাবে ‘মুক্তিযুদ্ধের দল’: সংসদে প্রশ্ন আজহারের ‘শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করতেই পারে না’: ফজলুর বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তকারীদের প্রশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে হামলাকারী ঘোর খ্রিষ্টানবিরোধী: ট্রাম্প ফ্লোরিডায় লিমনের সঙ্গে বৃষ্টিকেও হত্যা পাকিস্তানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফর বাতিল: ট্রাম্প বাংলাদেশে ২০২৫ সালে ‘তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়’ ছিল দেড় কোটির বেশি মানুষ স্ক্রিনশট পোস্ট করা নিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা, মারধর জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে বসার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

ধানের চারার চাহিদা কম, বিপাকে ব্যবসায়ীরা

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ৭১০ দেখা হয়েছে

 

হাবিব খান,টাঙ্গাইল

এই বছরে কৃষক ধানের দাম উৎপাদন মূল্যের চেয়েও কম পাওয়ায়  বাজারে ধানের চারার  চাহিদা কম, ফলে বিপাকে পড়েছে চারা ব্যবসায়ীরা। 

‘ এবছর ধানের যে দাম গেছে তাতে আমাগো দেশে আর কোন গরীব কৃষক ধান চাষ করবো না। এক মন ধানের দাম ৫শত টাকা। আর এক মন ধান আবাদ করতে লাগে ৮শত থেকে ৯শত টাকা। এভাবে যদি চলতে থাকে তাইলে আমাগো কি হবো। আমি ১৫ বছর ধরে চিকন ধানের চারা বিক্রি করি। দুই বছর আগেও চারার ভালো দাম পাইতাম। কিন্তু এহন তো লাভও অয় না। আমার পরিবারের লোকজন নিয়া কেমনে চলুম’, মনের ভিতর কষ্ট নিয়ে কথাগুলো বললেন টাঙ্গাইল জেলা সংলগ্ন ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা এলাকার ধানের চারা ব্যবসায়ী মো: আব্দুস সাত্তার। তার মত আরো অনেক ব্যবসায়ী ধানের চারা বাজারে তুলে বিপাকে পড়েছে।

জানা যায়, টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাজারে প্রায় কয়েক যুগ ধরে চলে বিভিন্ন জাতের ধানের চারার হাট। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের ১ তারিখ থেকে আশ্বিন মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত চলে এই হাট। এই হাটে পাটজাগ, নাজিরশাল, ধান-১১, পাইজাম, স্বর্ন-৫, স্বর্ন-৪৯, চিকন ধান, কালিজিরাসহ বিভিন্ন জাতের ধানের চারা বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। এ হাটে উত্তরবঙ্গ, ময়মনসিংহসহ টাঙ্গাইল জেলার আশপাশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা চারা নিয়ে আসেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল ৭ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ধানের চারা বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। তবে এ বছর বাজারে ধানের পর্যাপ্ত চারা থাকলেও ক্রেতার অভাবে বিপাকে ব্যবসায়ীরা। প্রতি মন ধানের দাম ৫শত টাকায় বিক্রি হওয়ায় তার প্রভাব পড়েছে চারা ব্যবসায়ীদের উপর। দুই বছর আগেও ধানের চারার দাম ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করতো তা এবছর ৩ থেকে ৬ টাকার মধ্যে বিক্রি করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। আবার অনেক ধানের চারা প্রতি আটি ১ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন প্রায় কয়েক হাজার টাকা লোকসান দিয়ে চারা বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা।

অপরদিকে ধানের দাম কম হওয়ায় অনেক কৃষক ধান চাষে অনিহা প্রকাশ করছে। চারার হাটে ক্রেতাদের আনা গোনা থাকলেও তেমন একটা দাম বলছে না তারা। ফলে বাধ্য হয়ে চারা ব্যবসায়ীরা কম দামে চারা বিক্রি করছে।

এলেঙ্গা বাজারে চারা কিনতে আসা কৃষক মজিবর বলেন, ধানের দাম ভালো না হওয়ার কারনে নিজের জমিতেই চারা বুনেছিলাম। কিন্তু যে চারা হয় তা ভালো না। তাই হাটে আসছি চারা দেখার জন্য। যদি কম দামে পাই তাহলে চারা কিনুম। না হলে ধান চাষ করমু না।

কয়েকজন কৃষক বলেন, যদি সরকার কৃষক বাঁচাতে চায় তাহলে ধানের দাম বাড়াতে হবে। ধানের দাম না বাড়লে কৃষক বাঁচবে না। যদি প্রতি মন ধান ৮শত থেকে ৯শত টাকায় বিক্রি করতে পারি তাহলে অবশ্যই আমরা ধানের আবাদ করবো। আমরা চাই ধানের দাম বাড়ানো হোক।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের দেলধা গ্রামের কৃষক মো: শাহাজাহান,  বলেন ধান চাষে আর কোন লাভ নেই । শুধুই ক্ষতি। আমার ৯ বিঘা জমিতে গত বছর রোপা আমন ধানের চাষ করেছিলাম । লাভতো দুরের কথা চাষের খরচই উঠাতে পারিনি । যেহেতূ আমি কৃষক ধান চাষ করতে অভ্যস্ত  কিন্তু এভবে ক্ষতি দিয়েতো আর বার বার ধান চাষ করা যায়না ।তাই এবার মাত্র ৩ বিঘা জমিতে ধানের চাষ করেছি ।

ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা বাপ্পীর মোড় এলাকার চারা ব্যবসায়ী জসীম উদ্দিন বলেন, আমি ৮৮ বন্যার পর থেকে বিভিন্ন জাতের ধানের চারার ব্যবসা করি। এ ব্যবসায় তেমন কোন ক্ষতির মুখ আমাকে দেখতে হয়নি। কিন্তু বিগত দুই বছর ধরে যে পরিমান লোকসান আমার হচ্ছে তাতে করে এ ব্যবসা করা আমাদের জন্য অনেক কষ্টের। দুই বছর ধরে তেমন একটা ব্যবসা নাই বললেই চলে। আর কৃষকরা এখন আর ধানের চাষ করতে চায় না। প্রতিদিন কয়েক হাজার টাকা লোকসান দিয়ে চারা বিক্রি করছি। এভাবে আর কতদিন। সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি ধানের দাম বাড়ানো হোক। তা না হলে আমাদের এ ব্যবসা ছেড়ে দিতে হবে।

মো: শের আলী, ফজলুল হক, আশেক আলীসহ আরো ব্যবসায়ীর বলেন, সরকার যদি একটু আমাদের দিকে নজর দিতো তাহলে আমরা পরিবার নিয়ে অনেক সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারতাম। আমরা কৃষক। আমরা যদি বাঁচি তাহলে ধান বাঁচবে। ধানের ফলন ভালো হবে। দেশে ধানের চাহিদা পূরণ হবে। ধানের দাম বাড়লে চারার দামও বাড়বে। তাই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ির উপ-পরিচালক মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ বছর আমরা সরকারী ভাবে ৬১ একর জায়গার উপর ধানের চারা রোপন করেছিলাম। যা থেকে আমাদের নির্ধারিত টার্গেট পূরণ হওয়ার পরও বেশি চারা পেয়েছি। আমাদের পাশাপাশি অনেক ব্যবসায়ী চারা রোপন করেছিলো। যার কারনে বাজারে ধানের চারা অনেক বেশি থাকায় দামটা কমে গেছে। আর যেহেতু এবার ধানের দাম অনেক কম গেছে তাই একটু সমস্যা হচ্ছে চারার বাজার গুলোতে। তবে আমরা এখন ধানের দিকে তেমন একটা গুরুত্ব দিচ্ছি না। কারন এখন ধানের চারা রোপন করলে সময় মত সরিষা চাষ হবে না। যেহেতু আমাদের ধান পরিমান মত আছে তাই আমরা চাই তেল জাতীয় ফসল বেশি করতে। আমাদের ধানেরও দরকার আছে আবার সরিষার ফলনও দরকার আছে। তাই আমরা এখন সরিষার ফলনে বেশি মনোযোগ দিচ্ছি।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com