.
বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া শাখার বাতিল করা টুকরো ২৪০ বস্তা টাকা শাজাহানপুর উপজেলার বড় চান্দাই গ্রামের খাউড়ার বিলে ফেলে দেয়া হয়েছে। আগুনে পুড়িয়ে না দিয়ে বিলে টাকার টুকরোগুলো ফেলে দেওয়ায় জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
জনগণ প্রথমে ভেবেছিলেন, কোন কালো টাকার মালিক আইন-শৃংখলা বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে টাকাগুলো কেটে বিলে ফেলে গেছেন। শাজাহানপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে শাজাহানপুর উপজেলার জালশুকা বড় চান্দাই গ্রামে খাউড়ার বিলে গিয়ে দেখা গেছে, শত শত মানুষের ভিড়। বগুড়া-বাগবাড়ি সড়কের পাশের বিলে যাওয়া কাঁচা সড়কে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ১০ টাকা থেকে হাজার টাকা নোটের গোল ও বিভিন্নভাবে টুকরো অংশ। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় পুলিশ বিল থেকে টাকার টুকুরোগুলো বস্তায় তুলছিলেন। সবার মুখে একই প্রশ্ন বাতিল টাকা পুড়িয়ে না ফেলে বিলে ফেলা হলো কেন? প্রত্যক্ষদর্শী ধুনট উপজেলার বেড়েরবাড়ি গ্রামের মাসুদ নামে এক তরুণ জানান, মঙ্গলবার সকালে বাগবাড়ি সড়ক দিয়ে যাবার পথে খাউড়ার বিলে টাকার টুকরো উড়তে দেখেন। আশপাশের লোকজন টের পেয়ে টাকা দেখতে ছুটে আসেন। কৌতুহলী জনগণ ও বাচ্চারা বিলে নেমে টাকাগুলো দেখতে থাকেন। শিশুরা টুকরো টাকাগুলো নিয়ে খেলায় মেতে ওঠে। তিনি আরো জানান, জনগণ প্রথমে ভেবেছিলেন কোন কালোবাজারী প্রশাসনের হাত থেকে বাঁচতে টাকাগুলো কেটে বিলে ফেলে গেছেন। পরে পুলিশ কর্মকর্তারা বিলের পাড়ে আসার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয় যে, টাকাগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহি পরিচালক জগন্নাথ চন্দ্র ঘোষ জানান, বাতিল টাকাগুলো টুকরো করে এক হাজার ৮০০ বস্তায় রাখা হয়েছে। এসব নষ্ট করতে তারা পৌরসভাকে চিঠি দিয়েছেন। পৌর কর্তৃপক্ষ ২৪০ বস্তা নিয়ে ডাম্পিং সেন্টারে না ফেলে বিলে ফেলেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকে বাতিল টাকা পুড়িয়ে ফেলার ব্যবস্থা থাকার পরও ডাম্পিং করতে পৌরসভাকে দেয়া হলো কেন এর উত্তরে তিনি বলেন, বাতিল টাকা পুড়িয়ে ফেলা ও ডাম্পিং দুটি করা যায়। তবে কত টাকা বাতিল হয়েছে সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।এ প্রসঙ্গে বগুড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাপরিচালকের বগুড়ায় আসার কথা আছে। তাই ব্যাংকের বগুড়া শাখা কর্তৃপক্ষ বাতিল টাকা ডাম্পিং করতে তাদের চিঠি দিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে পৌরসভার কনভারজেন্সি শাখার লোকজন টাকাগুলো ব্যাংক থেকে নিয়ে ডাম্পিং করছে। বিলে ফেলে দেবার বিষয়টি তার জানা নেই। বগুড়া পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত কনভারজেন্সি ইন্সপেক্টর মামুনুর রশিদ জানান, বাতিল টুকরো টাকাগুলো বাঘোপাড়া ডাম্পিং সেন্টারে ফেলতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ট্রাক চালক মাসুমের বাড়ি ওই এলাকায় (জালশুকা) হওয়ায় সে না বুঝেই বিলে ফেলেছে। তবে ট্রাক চালক মাসুম এক ট্রাক ভর্তি ৩৫ বস্তা বিলে ফেলার কথা স্বীকার করেছেন।
শাজাহানপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের বাতিল টাকা টুকরো ও গোল করে কাটার পর সেগুলো এ বিলে ফেলে গেছে। তিনি নমুনা হিসেবে আট বস্তা উদ্ধার করেছেন। এ ব্যাপারে শাজাহানপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছে।