অবশেষে বিএনপির সাংসদরা দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার জন্য জামিনের বিষয়ে সরকার প্রধানের সহযোগিতা লাভের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
বুধবার সকালে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সাংসদ হারুনুর রশীদ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাথে সচিবালয়ে দেখা করেন।
সাক্ষাতের পর হারুন সাংবাদিকদের বলেন আমি আবারো উনাকে (ওবায়দুল কাদেরকে) স্মরণ করিয়ে দিয়েছি, অনুরোধ করেছি , আবেদন করেছি উনি যেন ম্যাডামের জামিনের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলেন।
এই বিষয়ে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন তারা (বিএনপি সাংসদরা) বলেছে জামিন পেলে উনি (খালেদা জিয়া) বিদেশ যাবেন। তিনি (হারুনুর রশীদ) আমাকে বলেছেন এই বিষয়টা প্রধানমন্ত্রীকে বলার জন্য। সেটা আমি জানিয়েছি ।প্রশ্ন হচ্ছে তিনি (খালেদা) জামিন পাবেন কিনা সেটা আদালতের বিষয়, সরকার কিভাবে আদালতকে বলবে জামিন দিয়ে দেন। আর বিদেশে চিকিৎসার ব্যাপারে ডাক্তার বিদেশে চিকিৎসার জন্য রিপোর্ট দিলে তখন সেটা দেখা যাবে।
গতকাল মঙ্গলবার হারুনুর রশীদ সহ বিএনপির তিন সাংসদ বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎ করে আসার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হারুন বলেন ‘ উনি (খালেদা) চিকিৎসার সুযোগ পেলে তো অবশ্যই বিদেশ যাবেন। উনি আজকে জামিন পেলে কালকেই বিদেশ যাবেন এবং উনি যদি আজকে জামিন পায় প্রথম অগ্রাধিকার হবে উনার চিকিৎসা।
এদিকে বুধবার বিকালে খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে দেখে আসার পর বিএনপির সাংসদ জিএম সিরাজ সাংবাদিকদের বলেন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া ম্যাডামের (খালেদা জিয়ার) মুক্তি হবে না।
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে বলেন সংসদের নেতা হিসেবে আপনার (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) কাছে আমাদের সবিনয় অনুরোধ ম্যাডাম জিয়ার জামিনের জন্য আপনি পদক্ষেপ নিন।
গত বছরেরে ৮ ফেব্রুয়ারী খালেদা জিয়াকে ঢাকার একটি বিশেষ আদালত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় এবং ঐ দিন পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। গত এপ্রিল মাসে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউতে আনা হয়।