বাংলা হেডলাইনসঃ বিএনপির রাজধানী শহরে শনিবার দলটির সমাবেশকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মী ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় উত্তেজিত কিছু নেতাকর্মীদের মোতায়েনকৃত পুলিশের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়াতে। এতে পুলিশও উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুতি নেয়।
বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে সমাবেশস্থল বিএনপির নয়া পলটনস্থহ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কাছে ঘটনাটি ঘটে। দলের নেতাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে পুলিশ নেতাকর্মীদের সমাবেশস্থলে জমায়েতে বাঁধা দেয় শনিবারের জনসমাবেশের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অনুমতি না থাকার কারণে। এতে কর্মীরা উত্তেজিত হলে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৫০ জনের মত নেতাকর্মী আটক করে বলে বিএনপি নেতারা দাবি করে। উত্তেজিত নেতাকর্মীদের মিছিলে কারও কারও হাতে লাঠি দেখা যায়। পরে সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং বিএনপি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুপর ২ টার সময় জনসমাবেশটি শুরু করে।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বাংলা হেডলাইনসকে বলেন বিএনপি ডিএমপিকে অবহিত করেই দিনের জনসভাটি আয়েজন করে। তিনি দাবি করেন দলের ৫০ জনের অধিক নেতাকর্মীদের পুলিশ আটক করায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
‘ভারতের সাথে দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল, বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারের দাবি এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি’ শীর্ষক এ জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই দাবিতে বিএনপি ঢাকা মহানগর সহ সব মহানগরে শনিবার এবং সব জেলা সদরে রবিবার সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে।
নয়া পল্টনের জনসমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন যে সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে চারটি চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী ও জনস্বার্থ বিরোধী ।
বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা প্রসঙ্গে সরকারকে ইঙ্গিত করে বক্তারা বলেন আবরারকে হত্যা করে নাই, জনগণের স্বার্থকে হত্যা করেছে। দেশে আধিপত্যবাদ বিস্তার করার জন্য আবরারকে হত্যা করা হয়েছে।সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী-খান সোহেলের সভাপতিত্বে জনসমাবেশে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আফরোজ্জা আব্বাস প্রমুখ বক্তব্যে রাখেন।
বিএনপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সসহ আশ-পাশে কঠোর নিরাপত্তার বলয় গড়ে তুলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।