শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভী মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত।। আজ সংসদে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট নারীদের জন্য পিংক বাস সার্ভিস উদ্বোধন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে ।। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নতিতে আরও সময় লাগবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদ্যুৎ-গ্যাস সমস্যা সমাধানে সর্বনিম্ন ২ বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ভাগ্যের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিলেন: মির্জা ফখরুল বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে রিজভী-আমানসহ ৪ নতুন সদস্য তারেক রহমান আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা: অর্থমন্ত্রী

বগুড়ার সরকারি মুস্তাফাবিয়া মাদ্রাসার তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৯
  • ২৩৮৬ দেখা হয়েছে

বাাংলা হেডলাইনস বগুুড়া প্রতিনিধিঃ    বগুড়ায় ৯৪ বছরের প্রাচীন সরকারি মুস্তাফাবিয়া আলিয়া মাদ্রাসার তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ
মোখলেছুর রহমানের প্রশ্রয়ে তারা এসব করছেন বলে শোনা যাচ্ছে। প্রতিকার পেতে শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেওয়ায় তাদের জঙ্গি
হিসেবে চিহ্নিত করে মাদ্রাসা থেকে বহিস্কারের ভয় দেখানো হয়েছে।
অত্যাচারে অতিষ্ঠ কয়েকজন শিক্ষার্থী মাদ্রাসা থেকে টিসির আবেদন করেছেন। প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে
বিভিন্ন প্লাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করেছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, আরবি ও ইসলামি শিক্ষা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক জিএম শামসুল আলম, একই বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আব্দুল জলিল ও প্রভাষক হোসনে ফেরদৌস ২০১৭-১৮ সেশনের আলিম শিক্ষার্থীদের কাছে মাসিক পরীক্ষার নামে জনপ্রতি ২০০ টাকা করে নিয়ে আত্মসাৎ করেন। এ পরীক্ষায় অংশনা নেয়ায় ২০০ থেকে ৮০০ টাকা করে জরিমানা আদায় করেন। ক্লাসে অনুপস্থিতির নামে শিক্ষার্থীদের কাছে জোড়পূর্বক টাকা উত্তোলন করা হয়।
শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট না পড়ায় তাদের বিষয়ের পরীক্ষায় ফেল করে দেয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত ক্লাসের নামে জনপ্রতি এক হাজার টাকা আদায় করা হয়। নির্বাচনী মৌখিক পরীক্ষা ফি বাবদ ৪০ টাকা করে নেবার পরও আরো অতিরিক্ত ১০০ থেকে ১৫০ টাকা আদায় করা হয়। তাদের (শিক্ষক) বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও নির্বাচনী পরীক্ষায় বিশেষ সুবিধা দেবার প্রলোভনে নিজেদের কোচিং
সেন্টারে ভর্তি করানোর অভিযোগ রয়েছে। সাবেক অধ্যক্ষের বিদায় অনুষ্ঠানের বার্ষিক ভোজনেও বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে মর্মে উল্লেখ
আছে ওই অভিযোগপত্রে।
শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম, আব্দুল মোমিন, শাওন, রনি, রাকিব প্রমুখ জানান,অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কথা বললে তাদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও পুলিশে ধরিয়ে দেবার হুমকি দেয়া হয়। আদায় করা টাকার রশিদ চাইলে শিক্ষকরা বলেন, তোমাদের মত শিক্ষার্থীদের জন্য মাদ্রাসায় আসতে ইচ্ছা করেনা। দূনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ২০১৯ সালের আলিম পরীক্ষার্থীরা কীভাবে ভালো রেজাল্ট করেন,সেটা দেখার হুমকি দেয়া হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে ১৪ জন আলিম (উচ্চ
মাধ্যমিক) শিক্ষার্থী টিসি নিতে আবেদন করেছেন। তবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাদের টিসি দেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, উত্তরাঞ্চলের স্বনামধন্য এই প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের যোগসাজসে উল্লিখিত তিন শিক্ষক প্রভাব খাটিয়ে এসব অপকর্ম করছেন।
সহকারি অধ্যাপক জিএম শামছুল আলম তাদের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ দৃঢতার সাথে অস্বীকার করে বলেন, অধ্যক্ষের অনুমতি ছাড়া কোন টাকা উত্তোলন করা হয়নি। শুধু তাই নয়; কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কেউ কোন কাজ করেননি।
আর পরীক্ষার ভালো ফলাফল না হওয়ায় কয়েকজন শিক্ষার্থী টিসি নিতে চাইছে।

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা গেছে, এসবের কোন ভিত্তি নেই। শিক্ষার্থীদের টিসির আবেদনের ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কোন সদুত্তোর দিতে না পারলেও বলেছেন, তাদের বোঝানো হয়েয়ে এবং টিসি দেয়া হয়নি। এছাড়া জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেবার ব্যাপারে তার কিছু জানা নেই। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানিয়েছেন, অবিলম্বে মাদ্রাসার এসব অনিয়ম দূর ও অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি  ধ্বংস হয়ে  যাবে। 

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com