শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০২ অপরাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভী মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত।। আজ সংসদে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট নারীদের জন্য পিংক বাস সার্ভিস উদ্বোধন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে ।। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নতিতে আরও সময় লাগবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদ্যুৎ-গ্যাস সমস্যা সমাধানে সর্বনিম্ন ২ বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ভাগ্যের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিলেন: মির্জা ফখরুল বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে রিজভী-আমানসহ ৪ নতুন সদস্য তারেক রহমান আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা: অর্থমন্ত্রী

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলের’ প্রভাবে সারা দেশে বৃষ্টিপাত, বুলবুল ফণা তুলেছে

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৮৪৩ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনসঃ ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলের’ প্রভাবে আজ শনিবার সারা দেশে বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং বুলবুল ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে বঙ্গোপসাগর অতিক্রম করে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসছে। আজ রাত ৮ টা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে খুলনা এলাকায় বুলবুল আঘাত হানতে পারে বলে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে।
সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত খুলানা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৩৪৯ টি আশ্রয়কেন্দ্রে এক লাখ ৭৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বলে , জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।

শনিবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুলবুলের আঘাতে বঙ্গোপসাগরে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭ ফুট বেশি জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় রয়েছে বারিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, সাতক্ষিরা ও বাগেরহাট।

বাংলা হেডলাইনসের খুলনা প্রতিনিধি শনিবার তাঁর প্রতিবেদনে লিখেছেন ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ফণা তুলেছে। অপেক্ষা শুধু ছোবল মারার ! বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ভয়াল ঘূর্ণিঝড়টি ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ধেয়ে আসছে উপকূলের দিকে। এর প্রভাবে উপকূলীয় নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত খুলানা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৩৪৯ টি আশ্রয়কেন্দ্রে এক লাখ ৭৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বলে , জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় তিন জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় প্রায় ৫০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। বুলবুলের প্রভাবে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার মানুষকে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষায় বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা খুলনার কয়রা-দাকোপ, সাতক্ষীরার শ্যামনগর-আশাশুনি ও বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

উপকূলীয় জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৮৫৩ টি সাইক্লোন শেল্টার।

খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য বেলাল হোসেন
বলেন, কয়রার বেড়ি বাঁধের বেশ কিছু এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ। পানির যে চাপ তাতে যে কোন সময় বাঁধ ভেঙ্গে গ্রাম তলিয়ে সিডর-আইলার মতো ক্ষতি হতে পারে। এ অবস্থায় মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, আতঙ্কের নাম বেড়িবাঁধ, শঙ্কার নাম বেড়িবাঁধ, দুঃখের নাম বেড়িবাঁধ, নির্ঘুম রাতের নামও এই বেড়িবাঁধ। আবহাওয়ার সংকেত বাড়ার সাথে সাথে শঙ্কিত আমরা। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে বেড়েছে বৃষ্টির সাথে বাতাসের গতি। জোয়ারের পানি বৃদ্ধিতে ভাঙন আতঙ্কে কয়রার মানুষ। সৃষ্টিকর্তা যেন এই ভয়াবহ সংকট থেকে সবাই কে রক্ষা করেন।

এদিকে শুক্রবারের ন্যায় শনিবার সকালেও দক্ষিনাঞ্চলে দমকা বাতাস আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। উপকূল জুড়ে সিডরের পূর্বমুহূর্তের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও সিপিপির স্বেচ্ছাসেবকরা মাইকিং করে সতর্কতামূলক প্রচারণায় নেমেছে।

গভীর সমুদ্রে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আতঙ্কে উপকূলের লাখ লাখ মানুষ। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য মাইকিং করায় অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন সাইক্লোন শেল্টারে যেতে শুরু করেছেন। এদিকে এ তিন জেলার প্রতিটি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাইকিংসহ সকল সাইক্লোন শেল্টার ও সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সার্বক্ষণিক খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কন্টোল রুম খোলা হয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফকর উদ্দিন বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর প্রভাবে সাগর ও সংলগ্ন সুন্দরবনের নদ নদী খুবই উত্তাল রয়েছে। মোংলা বন্দরসহ সুন্দরবন উপকূলের আশপাশের এলাকায় হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া বইয়ে যাচ্ছে। মোংলা সমুদ্রবন্দরে বিশেষ সতর্কতা জারী করা হয়েছে। একই সঙ্গে খোলা হয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের কেন্দ্রীয় একটিসহ দুইটি সাব কন্ট্রোল রুম। জাহাজের পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, বুলবুল আঘাত আনলে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও বরগুনাসহ উপকূলীয় জনপদে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতার জন্য খুলনা নৌঘাঁটি তিতুমীরে পাঁচটি জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) খুলনার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ সাইদুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান জরুরি মেরামত করে মোটামুটি একটি পর্যায় নিয়ে এসেছি। আমাদের কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। আশা করি কোন সমস্যা হবে না। সেখান থেকে প্রতি নিয়ত জোয়ারের পানি কতদূর পর্যন্ত আসছে তা রেকর্ডিং করা হচ্ছে। আমাদের প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী আমরা এসডি লেভেলে যারা আছি সবাই মাঠ পর্যায়ে রয়েছি।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com