বাংলা হেডলাইনস টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে একটি কালী মন্দিরের তালা ভেঙ্গে ৫টি প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে ৬ টি প্রতিমার মধ্যে ৩ টির মাথা কেটে ফেলে রেখে যায় এবং ২টি মাথা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
বুধবার ভোরে রাতে উপজেলার সিলিমপুর উত্তর সেনবাড়ী সার্বজনীন কালী মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী, জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী বি.কম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ওই মন্দির কমিটির সভাপতি প্রতিশ চন্দ্র সেন বলেন, ‘ভোরে ঘুম থেকে উঠে মন্দিরের সামনে এসে দেখি কে বা কারা মন্দিরের ভিতরে থাকা মূর্তিগুলোর মাথা কেটে ফেলে রাখে এবং মাথা নিয়েও যায়। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’
এ ব্যাপারে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘একটি সুরক্ষিত মন্দিরের তালা ভেঙে কে বা কারা রাতের অন্ধকারে মূর্তিগুলোর ক্ষতি করেছে। এটা ধর্মীয় বিধিতে আইনগতভাবে অন্যায়। পুলিশ প্রশাসনের নিকট অনুরোধ করবো যাতে পরবর্তীতে এরকম ঘটনা না ঘটে। সেজন্য সচেতন ব্যক্তিরা যারা সমাজে বাস করেন তাদেরকেও অনুরোধ করবো তারা যেন এগুলো দেখভাল করে এবং মন্দির সুরক্ষিত রাখার জন্য এলাকা ভিত্তিক টিম গঠন করে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা যায়।’
তিনি বলেন এরআগে ২০১৪ সালেও এই এলাকার চাটিপাড়া গ্রামে মন্দির ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। তখনকোন আসামীর বিচার হয়নি। আমরা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যাতে ভবিষ্যতে মন্দির কিংবা প্রতিমা ভাঙ্গার সাহস কেউ না পায়।
এ প্রসঙ্গে কালিহাতী থানার ওসি হাসান আল মামুন বলেন, ‘এই মন্দিরের তালা ভেঙে মন্দিরের ভিতরে থাকা মূর্তিগুলোর মাথা ভেঙে ২ টি মাথা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এদিকে মন্দির ভেঙে প্রতিমা ভাংচুরের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সেইসাথে তাদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান
সোহেল হাজারী, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী বিকম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
শামীম আরা নীপা, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুদীপ কুমার দত্ত মানু, সাধারণ সম্বপাদক গোবিন্দ চন্দ্র সাহাসহ হিন্দু সমাজের নেতৃবৃন্দ।
হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী এমপি বলেন কালিহাতী উপজেলায় হিন্দু মুসলিম এক সাথে মিলে মিশে বসবাস করি। কোন গোষ্ঠী বা চক্র পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।
টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম ও জেলা পুলিশ সুপার রঞ্জিত কুমার রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন দূষ্কৃতিকারীরা রাতের অন্ধকারে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা খুব দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনবো। কালিহাতী থানার ওসি হাসান আল মামুন বলেন এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।