বাংলা হেডলাইনস বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবের কারণে বাগেরহাট জেলায় প্রায় এক লাখ গ্রাহক চার দিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। জেলায় পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের বিদ্যুৎ সরবরাহ এখনো স্বাভাবিক হয়নি।
রোববার ভোরে বুলবুলের তান্ডবে বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের খুঁটি ভেঙে, হেলে পড়ে, তার ছিড়ে এবং তারের উপর গাছ পড়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। কয়েক দিন ধরে
চেষ্টা চালিয়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলার উপজেলা সদরগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা গেলেও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখনো বিদ্যুৎ সরবারহ চালু করা যায়নি। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে গ্রাহকদের দ্রুত বিদ্যুৎ সরবারহ করার জন্য তারা দিন-রাত কাজ করছে।
পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য মতে ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে বিভিন্ন এলাকায় ৪১৫টি বিদ্যুতের খুটি ভেঙে গেছে এবং ৫৫৪টি খুটি হেলে পড়েছে। বিভিন্নএলাকায় চার হাজার ৪১১টি স্থানে বিদ্যুৎ সরবারহের তার ছিড়ে গেছে এবং ১০ হাজার ৮৮৯টি স্থানে বিদ্যুতের তারের উপর গাছ ভেঙে পড়েছে।
বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মো. জাকির হোসেন জানান,ঘুণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে তাদের আওতাধীন বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলা, ফকিরহাট, মোল্লাহাট, কচুয়া, রামপাল, মোংলা, চিতলমারী এবং খুলনা জেলার রূপসা ও তেরখাদা উপজেলায় বিদ্যুৎ বিভাগের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই নয় উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধিনে মোট দুই লাখ ৭৮ হাজার গ্রাহক রয়েছে। ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে ওই নয় উপজেলায় রবিবার থেকে তাদের বিদ্যুৎ সরবারহ বন্ধ হয়ে পড়ে।
বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের আওতাধীন নয়টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এক লাখ ৮৩ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবারহ করা সম্বভ হয়েছে। এখনো ৯৫ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবারহ করা যায়নি বলে তিনি জানান।
জিএম মো. জাকির হোসেন আরো জানান, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবারহ স্বাভাবিক করার জন্য দিন-রাত এক হাজার ৫০০ জনে মিলে কাজ করছে। তবে চাহিদার চেয়ে জনবল কম থাকায় বিদ্যুৎ বিভাগের এতবড় বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সময় লাগছে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সব গ্রাহকদের মাঝে বিদ্যুৎ সরবারহ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদি। ঝড়ের কারণে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের প্রায় চার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে বিদ্যুৎ বিহীন অবস্থায় থাকা বিভিন্ন গ্রামের নারী-পুরুষ গ্রাহকদের সাথে কথা হলে তারা জানান, ঘুর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত হানার চার দিন অতিবাহিত হলেও তারা বিদ্যুৎ বিহীন অবস্থায় আছে। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে তাদেরকে নানা ধরণের সমাস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে মোবাইল ফোনের চার্জ অনেক আগেই শেষ হওয়ার কারণে তারা যোগাযোগ করতে পারছেনা। দুরে থাকা স্বজনরাও তাদের সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় স্কুল-কলেজ পড়–য়া ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা দ্রুত বিদ্যুৎ সরবারহ করার জন্য কৃর্তপক্ষের কাছে দাবি জানান।