বাংলা হেডলাইনস বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ায় গুজব ছড়িয়ে দিগুণ বা তার চেয়ে বেশি দামে লবণ বিক্রির অভিযোগে আটককৃতদের ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করেছেন। মঙ্গলবার রাতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার আটক ৪৪ জনের কাছে জরিমানা আদায় ও মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞার তত্ত্বাবধানে মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ৪৪ জনকে আটক করা হয়। রাতেই ভ্রাম্যমান আদালতে ধুনটে ১১ জনকে ৫৯ হাজার টাকা, সোনাতলায় ৩ জনকে ৬০ হাজার টাকা ও ৩৩ বস্তা লবণ জব্দ, সারিয়াকান্দিতে ৪ জনকে ১০ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা ও ৬ জনকে মৌখিক সতর্ক, কাহালুতে ৩ জনকে ১৩ হাজার টাকা এবং শেরপুরে ৮ জনকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানান, আটক ১৭ জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কোথাও বেশি দামে লবণ বিক্রি হলে অভিযান চালানো হবে।
গুজবকারিদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা তথ্য অফিস, জনপ্রতিনিধিরা মাঠে নামেন। বিভিন্ন উপজেলায় ইউএনও, ওসি, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়ররা বিভিন্ন হাটে বাজারে মনিটরিং শুরু করেন। জেলা প্রশাসন ও সদর উপজেলা প্রশাসন থেকে শহরজুড়ে লবণ নিয়ে গুজবে কান দিতে নিষেধ এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ মজুদ থাকার কথা মাইকে প্রচার করা হয়।
গুজবকারিদের দমনে বগুড়া জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সালাহউদ্দিন আহমেদ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান সফিক ও পুলিশ কর্মকর্তারা মাঠে নামেন। হাটে-বাজারে গুজবকারিরা যাতে কিছু না করতে পারে সেজন্য তাদের আটকে তৎপর হন।
বগুড়া জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ জানিয়েছেন, জেলায় লবণের কোন নেই। দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে তিনি সবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ লবণের বাজার অস্থির হয়ে উঠে। ঢাকায় ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে এমন গুজবে জনগণ লবণের দোকানগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে প্রতি কেজি লবণে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেশি নিয়েছেন।
বগুড়ার এসি আই লবণ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি সীমান্ত কুমার জানান, গুজব ছড়িয়ে কেউ ফয়দা নেয়ার চেষ্ট চালাচ্ছে। তারা ব্যবসায়ীদের কাছে এক কেজির লবণের প্যাকেট ২৬ টাকায় বিক্রি করেন। খুচরা বাজারে কোন দোকানী ২৮ টাকা, কেউ ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে। লবণের দাম কোথাও বাড়েনি।