সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
১৯ সেপ্টেম্বর জামায়াতের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী স্থানীয় সরকার জরুরি: রাষ্ট্রপতি ব্রিকসের নয়া দিল্লি ঘোষণায় বহুপক্ষীয়কতাবাদ ও শান্তিতে জোর ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণদের সপ্তাহে এক ঘণ্টা সময় দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ ‘প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধি পাঠানোর সুযোগ নেই’ এসআরবি বিল পাস, বিলুপ্ত র‍্যাব দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে প্রশ্ন আসিফ মাহমুদের শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই:উপদেষ্টা জাহেদ

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ দেখা হয়েছে
ফাইল ফটো।

বাংলা হেডলাইনস: স্বৈরাচারী সরকারের অধীনে ১৫ বছর অস্বস্তিকর সম্পর্কের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে চায় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ তথ্য জানান।

জাতিসংঘ সফরের আগে বা সাইডলাইনে ভারতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে ভালো ও কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে বাংলাদেশ একটি দ্বিপক্ষীয় সফরকে অগ্রাধিকার দিতে চায়। তবে এর অর্থ এই নয় যে কোনো বহুপক্ষীয় ফোরামে গিয়ে অন্য দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলিনি যে প্রতিটি বহুপক্ষীয় জায়গায় গেলে আমরা কাউকে মিট করব না। দুটি বিষয় আলাদা।’

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চাই। আমরা সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে চাই। এতদিন একটি ঝামেলাগ্রস্ত, ত্রুটিপূর্ণ, লুটেরা, স্বৈরাচার সরকারের সঙ্গে ১৫ বছরের সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্ক থেকে বের হয়ে এখন একটি নতুন সম্পর্কের দিকে যাব। এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মাধ্যমেই করব।’

তবে জাতিসংঘের মতো বহুপক্ষীয় ফোরামে ভারতের সঙ্গে কোনোভাবেই বৈঠক হবে না—এমন ধারণা ঠিক নয় বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এর অর্থ এই নয় যে বহুপক্ষীয় যেকোনো জায়গায় গেলে প্রাতিষ্ঠানিক আমন্ত্রণে আমরা সাইডলাইনে বৈঠক করব না। সেটি কখনই বলা হয়নি।’

ভারত প্রসঙ্গে একের পর এক প্রশ্ন না করে নিজেদের দেশের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ডেইলি ঘুম থেকে উঠে ব্রেকফাস্ট খাইতেই ইন্ডিয়া, লাঞ্চ খাইতেই ইন্ডিয়া, ডিনার খাইতেই ইন্ডিয়া—তাহলে ভাই, আপনার নিজের দেশের খাবার কোন সময় খাবেন? খালি যদি ইন্ডিয়া ইন্ডিয়া করেন! নিজের দেশের চিন্তা করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘যার সঙ্গে যখন আমাদের দ্বিপক্ষীয় (বৈঠক) করতে হবে, বহুপক্ষীয় ফোরামে গিয়ে কথা বলতে হবে, আমরা তা করব। যেখানে যে সুযোগ থাকবে, আমরা সম্পৃক্ত হব। নেতারা সবার সঙ্গে দেখা করতে পারেন না। অনেক আমন্ত্রণ থাকে। সাইডলাইনে অনেক অনুষ্ঠানে আমরা অংশ নেব।’

এছাড়া সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও বাংলাদেশিদের ধরে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলোর বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, এসব বিষয় কূটনৈতিকভাবে ভারতের জাতীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সীমান্ত ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও সীমান্ত প্রটোকল রয়েছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কাঠামোগত চুক্তিও রয়েছে। এসবের আওতায় উদ্বেগের বিষয়গুলো প্রতিটি পর্যায়ে তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।

ভারতের সঙ্গে ১০১টি চুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং সংসদীয় কমিটিতে তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে চিফ হুইপের কাছে জানতে সাংবাদিকদের পরামর্শ দেন তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের নতুন সরকারের ভিশন তুলে ধরবেন উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির জানান, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার সম্ভাবনা রয়েছে তার। এ সময়ে জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের সঙ্গেও বিভিন্ন বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, টেকসই সমাধান ও সংঘাত নিরসনে বাংলাদেশের ভূমিকার কথাও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে থাকবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে দারিদ্র্য দূরীকরণ, স্থানীয় অর্থনীতিতে মানুষের আকাঙ্ক্ষা তৈরি, বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ এবং জলবায়ু নিরাপত্তা ও জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশের নেতৃত্বের বিষয়গুলোও ভাষণে স্থান পেতে পারে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে কার কার সঙ্গে বৈঠক হবে, তা চূড়ান্ত হতে সময় লাগতে পারে। বহুপক্ষীয় ফোরামে এ ধরনের বৈঠক শেষ মুহূর্তেও নির্ধারিত হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সাইডলাইনে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আয়োজন করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য একটি ‘টপ প্রায়োরিটি’ এবং জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বের ক্ষেত্রেও এটি অগ্রাধিকার পাবে। এই সংকটের বিষয়ে সচেতনতা ও আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা পুরো সভাপতিত্বের সময়জুড়ে অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com