বাংলা হেডলাইনস বগুড়াঃ বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় রেল লাইনের ওপর প্রতিদিন কাপড়সহ বিভিন্ন প্রসাধনীর বাজার বসে। ট্রেন আসার আগে ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য সরিয়ে নেন। এ মার্কেটের কারণে ট্রেনে কেটে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। রেল বিভাগ থেকে মাঝে মাঝে উচ্ছেদ করা হলেও আবারও দোকান বসে। বুধবার দুপুরে ট্রেন এলেও ব্যবসায়ীরা টেন পাননি। চালকের সতর্ককতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে লাইনের ওপর অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
বগুড়া স্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আক্তারুন্নাহার লিপি এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। আশপাশের লোকজন বলেছেন, গাবতলী উপজেলার রুমি খাতুন (৩০) এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার মানিক (৫৫) ছাড়াও তিনজন আহত হয়েছেন। ব্যবসায়ীরা তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়া স্টেশনের পূর্ব পাশে এক নম্বর ঘুমটি পর্যন্ত রেল লাইনের ওপর দীর্ঘদিন ধরে তিন শতাধিক কাপড় ও অন্যান্য দোকান বসে। ট্রেন এলে ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য সরিয়ে নেন। এ জন্য স্থানীয়রা নাম দিয়েছেন ‘হঠাৎ মার্কেট’। নিম্ন আয়ের মানুষেরা এখানে কেনাকাটা করে থাকেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। রেল বিভাগ গত ১৯ নভেম্বর অভিযান চালিয়ে ওই মার্কেট উচ্ছেদ করলেও দু’দিন পর আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। এখানে ট্রেনে কেটে কয়েকজনের প্রাণহানিও ঘটেছে।
বগুড়ার রেল স্টেশন মাষ্টার আবুল কাশেম ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্রসিং-এর প্রয়োজনে ঢাকা ছেড়ে আসা লালমনিরহাটগামী আন্ত:নগর লালমনি এক্সপ্রেস বুধবার বেলা ১১টার দিকে স্টেশনের ১ নম্বর লাইনে থামে। এ সময় দিনাজপুর ছেড়ে আসা সান্তাহারগামী দোলনচাঁপা আন্ত:নগর ট্রেন আসলে সিগন্যাল ও পয়েন্ট ঠিক করে ২ নম্বর লুপ লাইনে আসার নির্দেশনা দেয়া হয়। মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানেন ট্রেন ১ নম্বর লাইন দিয়ে আসবে। তাই তারা ওই লাইন থেকে মালামাল সরিয়ে নেন। কিন্তু দোলনচাঁপা ট্রেন হুইসেল বাজিয়ে ২ নম্বর লাইন দিয়ে আসতে থাকে। টের পেয়ে ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল ফেলে দৌড়ে পালাতে থাকেন। ট্রেন চালক টের পাওয়ায় ট্রেনের গতি কমিয়ে থামিয়ে দেন। এ সময় লাইনের ওপর থাকা ব্যবসায়ীদের মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। ৩-৪ জন আহত হলেও অল্পের জন্য কোন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
স্টেশন মাস্টার আরো জানান, রেল লাইন থেকে দুই পাশের ১০ ফুট করে জায়গায় সবসময় ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও কেউ মানেন না। সিগন্যাল এবং পয়েন্টের তারের উপর অবৈধ দোকান বসার কারণে অনেক সময় সঠিকভাবে সিগন্যাল ও পয়েন্ট করা সম্ভব হয়না। অথচ ট্রেন চলাচলের মূল বিষয়টি সিগন্যাল ও পয়েন্টের ওপর নির্ভর করে।