বাংলা হেডলাইনস : সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বৃহস্পতিবার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানি শেষে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা এজলাসে হট্টগোল করে এবং সেখানে অবস্থান নেয়।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ৬ সদস্যের আপিল বেঞ্চ সকালে খালেদার জামিনের পরবর্তী শুনানির তারিখ ১২ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেন এবং এই সময়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে খালেদা জিয়া স্বাস্থ্যের মেডিকেল রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিএসএমএমইউএর সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে। আজ বৃহস্পতিবার এই রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা ছিল। খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আদালতের এই আদেশে সন্তুষ্ট না হওয়ায় খালেদার আইনজীবীরা এজলাসে হট্টগোল করেন এবং অবস্থান নেন বলে আইনজীবীরা ও প্রতক্ষদর্শীরা জানান। সকাল ১১ টা পর্যন্ত এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আপিল বিভাগের এজলাসে অবস্থান করছিলেন জামিনের শুনানি এগিয়ে দেওয়ার দাবিতে বলে জানা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম বন্ধ থাকে এবং এক পর্যায়ে আদালত এজলাস থেকে উঠে চলে যান।
এদিকে বানলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সকাল ১১: ১৫ মিনিটে এক প্রেস ব্রিফিঙে বলেন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন করা হয়েছিল বিশেষভাবে তাঁর স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে। তখন আপিল বিভাগ তাঁর স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা জানতে চেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্বাস্থ্যগত রিপোর্ট চেয়েছিলেন এবিং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যেহেতু তাঁর স্বাস্থ্যের বিভিন্ন ব্যাপারে নানারকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে রিপোর্ট দিতে সপ্তাহখানিক সময় লাগবে এই কথা বলার সাথে সাথে আদালত যখন এই বিষয়টি আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী বৃহস্পতিবার ধার্য করলেন তখনই বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালতে চরম হট্টগোল ও গণ্ডগোল শুরু করে এবং যে বিশৃঙ্খলা তারা (বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা) সৃষ্টি আজকে করেছে তা আমাদের এই বয়সে এই বিশৃঙ্খলা আদালতে দেখিনি।তারা আদালতকে একটি অবমাননা অবস্থায় নিয়ে গেছে। আদলতের উপর একটা অবৈধ চাপ সৃষ্টি করার জন্য এই ধরনের কর্মকাণ্ড তারা করেছে। তাদের এই বিশৃঙ্খলার জন্য আদালত আজকে একটি সময়ে উঠে যেতে বাধ্য হয়েছে। এবং তারা (বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা) আদালতের কার্যক্রম ঠিকমত চালাতে দেয়নি। এটা খুবই ন্যাক্কারজক । আজকে আমারা সবাই এটার প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এভাবে তারা যদি আদালতে কাজের বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে তাহলে আমি প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন জানাবো এদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য।