বাংলা হেডলাইনস : কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট দুর্নীতি মামলায় জামিনের আবেদন বৃহস্পতিবার খারিজ করে দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চ সর্বসম্মতিক্রমে খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন খারিজের নির্দেশ দেন। বিচারিক আদালত খালেদা জিয়াকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ডের সাজা দেন।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া মূলত তাঁর স্বাস্থ্যগত কারণে জামিনের আবেদন করেছিলেন।
আদালতের আদেশের পর বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের জানান উনারা (আপিল বেঞ্চ) সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত (খালেদার জামিনের আবেদন খারিজ) নিয়েছেন।
তিনি বলেন তাঁর (খালেদার) দুটো হাঁটুই রিপ্লেসমেন্ট করা হয়েছে। একটা ১৯৯৭ সনে আর একটা ২০০২ সনে। স্বাভাবিকভাবেই এতোদিন পরে রি-রিপ্লেসমেন্টের কার্যকারিতা থাকে না এবং সে ক্ষেত্রে অ্যাডভান্সড ট্রিটমেন্ট নিতে হয়। কতগুলো বিশেষ ধরনের ইনজেকশন আছে। কিন্তু সেই ইনজেকশন নেওয়ার ব্যাপারে উনার অনুমতি না হলেতো ইনজেকশন দেওয়া যাবে না। এবং উনি অনুমতি দিচ্ছেন না। আদালত বলেছেন উনি (খালেদা) যদি অনুমতি দেন তা হলে সেই চিকিৎসা যেণ বিশ্ববিদ্যালয় ( বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ শুরু করে।
বিএনপি নেতা ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন সে (খালেদা জিয়া) পঙ্গু অবস্থায় আছেন। তাঁর অ্যাডভান্সড ট্রিটমেন্টের দরকার। বয়স্ক মহিলা উনার উন্নত চিকিৎসা দরকার। এই অবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট তাঁর জামিন নাকচ করবে এটা একটা নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত।
আর একজন বিএনপি নেতা ও খালেদার আইনজীবী জয়নুল আবেদিন বলেন খালেদা জিয়া আজকে রাজনৈতিকভাবে নিষ্পেষিত । সরকারের ‘রোষানলে’ তিনি আজকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকেও বেল (জামিন) পেলেন না।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবু উদ্দিন খোকন বলেন তারা (সরকার) খালেদা জিয়াকে কারাগারে মৃত্যুর জন্য ব্যবস্থা করছে।
আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন অহেতুক সময় নষ্ট না করে সংবিধানে যে প্রভিশন আছে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, সেই পথে তাঁকে (খালেদা) এগুনোই আমার মনে হয় সবচাইতে ভাল হবে।
বৃহস্পতিবার প্রায় দুপুর সোয়া একটা পর্যন্ত খালেদার জামিনের শুনানি চলে। আওয়ামী লীগপন্থী ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে খালেদার জামিনের পক্ষে বিপক্ষে মিছিল করে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে খালেদার জামিনের আবেদন খারিজ করায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করে।