বাংলা হেড লাইনস বগুড়া : বগুড়ায় শিশু গৃহকর্মী নূপুর খাতুনকে (১৪) মারপিট ও চুল কেটে দেয়ায় পর বিষপানের ঘটনায় গৃহকর্তা আবদুর রাজ্জাক (৬২) ও গৃহকর্ত্রী রোকসানা বেগমের (৫৫) বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বগুড়া শহরের বাদুড়তলা এলাকার সমাজসেবক আবদুল মান্নান আকন্দ সোমবার রাতে সদর থানায় এ মামলা করেন।
পুলিশ রাতেই আবদুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নূপুরকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) স্থানান্তর করা হয়েছে।
আবদুল মান্নান আকন্দ এজাহারে উল্লেখ করেছেন, নির্যাতনের শিকার নূপুর অসহায় ও এতিম, তার কেউ নেই। তাই অভিভাবক হিসেবে মামলা করেছেন। তিনি জানান, নূপুর গত ৯ বছর ধরে বগুড়া শহরে ঠনঠনিয়া দক্ষিণপাড়ার আবদুর রাজ্জাক ও রোকসানা বেগম দম্পতির বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে আসছে। সে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করলেও আসামিরা তাকে কারণে, অকারণে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। গত ১৫ ডিসেম্বর বিকাল ৪টার দিকে নূপুর বাড়ির ছাদ থেকে প্রতিবেশী নারীদের সাথে কথা বলে। গৃহকর্ত্রী রোকসানা বেগম টের পেয়ে ক্ষিপ্ত হন। তিনি তাকে বাড়িতে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের পর মাথার চুল কেটে দেন। নূপুর মারপিট ও চুল কেটে দেবার বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে ইঁদুর মারার ওষুধ (বিষ) সেবন করে। অবস্থা বেগতিক দেখে গৃহকর্তা আবদুর রাজ্জাক সন্ধ্যার পর তাকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।
মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবদুল আজিজ মন্ডল জানান, আবদুর রাজ্জাক টিএ্যান্ডটির অবসারপ্রাপ্ত হেড অ্যাসিস্ট্যান্ট। ৯ বছর আগে রংপুরে চাকরিকালে তিনি ৫ বছরের নূপুরকে ১০০ টাকার বিনিময়ে তার ফুফুর কাছে কিনে নেয়। এরপর থেকে সে রাজ্জাক-রোকসানা দম্পতির বাড়িতে আছে। মারপিট ও চুল কেটে দেয়ায় সে ক্ষোভ-অভিমানে আত্মহত্যার জন্য বিষপান করেছিল। মঙ্গলবার শজিমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে স্থানান্তর করেছেন। প্রতিবেশিরা জানান, ওই দম্পতি নূপুরকে সন্তান হিসেবে লালন-পালনের জন্য নিলেও তাকে লেখাপড়া করাননি। দীর্ঘদিন ধরে গৃহকর্মীর কাজ করান এবং ভুল করলে নির্যাতন করে আসছেন। তাদের ছেলে এসিল্যান্ড ও মেয়ে চিকিৎসকসহ হওয়ায় তারা কাউকে তোয়াক্কা করেন না।
সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রেজাউল করিম রেজা জানান, সোমবার রাতে মামলার পরপরই গৃহকর্তা আবদুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। অপর আসামি তার স্ত্রী রোকসানাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।