মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:

রাজাকার তালিকা স্থগিত করেও সুরাহা হয়নি

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৬৯৮ দেখা হয়েছে
ফাইল ছবি

বাংলা হেডলাইনস: সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত ‘ভুলত্রুটিযুক্ত’ রাজাকারদের তালিকা প্রকাশের পর মুক্তিযোদ্ধা, তাদের পরিবার, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন এবং ব্যক্তিবর্গের ক্ষোভ ও বিক্ষোভের মুখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী তালিকাটি স্থগিতের ঘোষণা দেন।

কিন্তু এই তালিকা স্থগিতে সমস্যার সুরাহা হয়নি। এখনও বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি দাবি ও অভিযোগ নিয়ে সোচ্চার্‌, রাজাকার, আলশামস, আলবদরদের তালিকায় বীর নামী মুক্তিযোদ্ধাদের নাম এসেছে।

রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন জাতির কাছে তাদের নিঃশর্ত  ক্ষমা চেয়ে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার জন্য। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী এই নোটিশটি পাঠিয়েছেন। তিনি নোটিশে উল্লেখ করেন নোটিশ প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা না চেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে জানা গেছে সামাজিক মিডিয়াতে প্রচারিত হয়েছে যে রাজাকারের তালিকাটি তৈরিতে ৬০ কোটি টাকা ব্যায় হয়েছে।

এই অভিযোগ খণ্ডন করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম.  মোজাম্মেল হক গতকাল ঢাকায় সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন যে ৬০ কোটি দূরে থাকুক ৬০ পয়সাও আমরা খরচ করি নাই । খরচ করার কোন কারণও ঘটে নাই। সরকারের কাছে বরাদ্দ চাওয়াও হয় নাই, নেওয়াও হয় নাই। এটা নিছক মিথ্যাচার, উদ্দেশ্য প্রণোদিত।যদি যারা এ কথা বলেছে প্রত্যাহার না করে তা হলে তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হবে।

গত ১৫ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী তাঁর মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে ১০,৭৮৯ জন রাজাকার, আলবদর, আলশামস এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের নামের তালিকা প্রকাশ করে। তালিকাটি প্রকাশের পর দেশের বিভিন্ন জেলায় দেখা যায় অনেক প্রখ্যাত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম রাজাকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এত মুক্তিযোদ্ধা, তাদের পরিবার এবং এলাকবাসীর মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং এর প্রতিবাদে কোথাও কোথাও বিক্ষোভ , মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ হয়েছে।

এই পরিস্থিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১৮ ডিসেম্বর একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাজাকারের তালিকাটি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।

১৯ ডিসেম্বর মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক বলেন যে রাজকারের তালিকটি আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করেছি।অন্যান্য যে সমস্ত তালিকা আমাদের হাতে আছে সেগুলো সব এক সাথে করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা আগামী স্বাধীনতা দিবসে প্রকাশ (তালিকা) করবো ইনশাল্লাহ।

গতকাল ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেন ত্রটিপূর্ণ তালিকার প্রস্তুতের যথাযথ তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের দাবি করেন।

বিতর্কিত রাজাকারের তালিকা প্রসঙ্গে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন আমরা কোন বিভাগীয় তদন্ত গ্রহণ করবো না। আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইবুনালের (বাংলাদেশ) চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু বলেন যে সমস্ত ব্যক্তিবর্গ এই তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে দায়ী তাদের নাম খুঁজে বের করা এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।         

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com