বাংলা হেডলাইনস বগুড়া: বগুড়ায় গত কয়েক দিন যাবত প্রচন্ড শীত। শীতের কারণে জেলার ১৮ লক্ষাধিক গবাদি পশু নিয়ে কৃষক ও খামারিরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থা বিরাজ করলে নিউমোনিয়া, বদহজম ও ইনফেকশনজনিত রোগগুলো বৃদ্ধির আশংকা করা হচ্ছে।
শনিবার বগুড়ার ধুনট, সারিয়াকান্দি, বগুড়া সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে শীতের কারণে কৃষক ও খামারিরা তাদের গবাদিপশু নিয়ে খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। তারা শীতের প্রকোপ থেকে মূল্যবান পশুদের সুস্থ রাখতে গায়ে চট, কম্বল ও কাপড় জড়িয়ে দিচ্ছেন। ধুনট উপজেলার চিথুলিয়া গ্রামের তরিকুল ইসলাম জানান, তার ছয়টি গরু রয়েছে। শীতের কারণে গরুগুলো ঠিকমত খাচ্ছেনা। ঠান্ডায় কষ্ট পাওয়ায় গায়ে কাথা, চট দিয়ে রেখেছেন।
একই গ্রামের কৃষক বাদশা মিয়াও একই কথা জানালেন। বৈশাখী চরের কৃষক ভুল শেখ জানান, গত ৩-৪ দিন ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীত। পাশাপাশি যমুনা নদীর ঠান্ডা বাতাসের কারণে চরের মানুষ মাঠে যেতে পারছেন না। তাই গরুগুলোও বের করা সম্ভব হচ্ছেনা। গোয়ালে চট গায়ে দিয়ে খাবার দেয়া হচ্ছে। এমন শীত আরো কয়েকদিন থাকলে তাদের গরু-ছাগল নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে। এ উপজেলার ধারাবর্ষা, বোহাইল, আওলাকান্দি ও বথুয়ার ভিটার একই অবস্থা। সারিয়াকান্দির দেবডাঙ্গার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, তার বাড়িতে ৫টি গরু ও ৭টি ছাগল রয়েছে। কয়েকদিনের শীতে গবাদি পশুগুলো দূর্বল হয়ে গেছে। ঠিকমত খাচ্ছেনা। চট ও কাথা দিয়ে তাদের শরীর মুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি ও তার মত অন্য কৃষকরা গবাদি পশুগুলো অসুস্থ হবার আশংকা করছেন।

বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে কৃষক ও খামারিদের কাছে ১৮ লক্ষাধিক গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ রয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে দেশের অন্যান্য স্থানের মত বগুড়ায় প্রচন্ড শীত। এ অবস্থা বিরাজ করলে, গবাদি পশু বিশেষ করে বাচ্চাগুলোর নিউমোনিয়া রোগ ও বদহজম সমস্যা হবে। এছাড়া যেসব পশুর ইনফেকশনজনিত রোগ আগে ছিল তা বৃদ্ধি পাবে। তিনি জানান, তারা এ ব্যাপারে খুব সতর্ক রয়েছেন। শীত অব্যাহত থাকলে আরো তৎপর হবেন।