বাংলা হেডলাইনস: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালকদার সাহেব যে কথাগুলো বলেছেন, আমি মনে করি একথাগুলো বলার আগে পদত্যাগ করা প্রয়োজন ছিল। কারণ তিনি তার যে সমস্ত ব্যর্থতার কথা বলেছেন, এগুলো স্বপদে থেকে বললে আত্মপ্রবঞ্চনা হয়।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীতে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময়কালে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন।
মাহবুব তালুকদারের নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংস্কার নিয়ে মন্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের অর্থাৎ আওয়ামী লীগের দাবির প্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার অনেক সংস্কার হয়েছে। বাংলাদেশে আজকে যে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা, তা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার দাবি ছিল। সেই দাবির প্রেক্ষিতেই ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা হয়েছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াতে অনেক সংস্কার হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটি যুগের প্রয়োজনে যে কোনো সময় হতে পারে।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘একসময় আমাদের দেশে হাত তুলে ভোট দেয়া হতো। পরে সেই ভোট ব্যালটের মাধ্যমে এবং সেইসাথে এখন ইভিএম মেশিনে দেয়া হচ্ছে। এগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়া সংস্কারের একটি চলমানপ্রক্রিয়া।’
মাহবুব তালুকদারের বক্তব্যে কমিশনের স্বাভাবিক অবস্থান নষ্ট হবে কি না- সে প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমি মনেকরি না এতে কমিশনের স্বাভাবিক অবস্থা নষ্ট হয়। কারণ মাহবুব তালুকদার সাহেব বিভিন্ন সময় এ ধরণের কথা বলে আলোচনায় থেকেছেন, তিনি এ ধরণের দ্বিমত পোষণ করে আলোচনা থাকার চেষ্টা করেছেন, সেটিই প্রতীয়মান হয়।’
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনে আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে ইসি মাহবুব বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আইনত স্বাধীন, কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে সেই স্বাধীনতা নির্বাচন প্রক্রিয়ার কাছে বন্দী। এ জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংস্কার প্রয়োজন। নির্বাচন যদি গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত হয়, তাহলে গণতন্ত্রের পদযাত্রা অবারিত করতে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হতে হবে।’