বাংলা হেডলাইনস বগুড়া: দূর্নীতি দমন কমিশন বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের পাতানো ফাঁদে পা দিয়েছেন বগুড়া কর অঞ্চলের ১৫ সার্কেলের সহকারি কর কমিশনার অভিজিৎ কুমার দে।
মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক করদাতার কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেবার সময় দুদক কর্মকর্তারা তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছেন। বিকালে এ খবর পাঠানোর সময় তার বিরুদ্ধে দুদক আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছিল।
দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো: মনিরুজ্জামান জানান, বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ব্যবসায়ী ইউনুস আলী করদাতা। কর অঞ্চল বগুড়ার ১৫ সার্কেলে তার ফাইল আছে। তিনি ১৪/১৫ অর্থ বছরে কিছু সম্পত্তি বিক্রি করেন। ১৮/১৯ অর্থ বছরে আয়কর ফাইল থেকে বিক্রি করা জমি বাদ দিতে তিনি সহকারি কর কমিশনার অভিজিৎ কুমার দে’র স্মরণাপন্ন হন। কিন্তু তিনি গত ৬ মাস ধরে ফাইলটি আটকে রেখে তালবাহানা করতে থাকে।
এক পর্যায়ে এ কাজের বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। করদাতা ঝামেলা এড়াতে ২০ হাজার টাকা দিতে চাইলেও কর কর্মকর্তা রাজি হননি। বাধ্য হয়ে ইউনুস আলী বিষয়টি দুদক কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দুদক কর্মকর্তারা কর অফিসে ফাঁদ পাতেন। পরামর্শ অনুসারে ব্যবসায়ী ইউনুস আলী মঙ্গলবার সকালে দুদক কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। তিনি বেলা পৌণে ১টার দিকে বগুড়া কর অঞ্চলের ১৫ সার্কেলের সহকারি কর কমিশনার অভিজিৎ কুমার দে’র কাছে ঘুষের টাকা দেন। এ সময় দুদকের সহকারি পরিচালক আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে দুদক কর্মকর্তারা তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার ও ড্রয়ার থেকে চিহ্নিত করা ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করেন। সহকারি কর কমিশনার অভিজিৎ কুমার দে টাকার ব্যাপারে সদুত্তোর দিতে ব্যর্থ হন।
অভিযানে দুদকের উপ-সহকারি পরিচালক ওয়াহিদ মঞ্জুর সোহাগ, সুদীপ কুমার চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এ প্রসঙ্গে বগুড়া ট্যাক্সেস ল’ইয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান জানান, কর অঞ্চল বগুড়ার ১৫ সার্কেলের সহকারি কর কমিশনার অভিজিৎ কুমার দে এর আগেও কয়েকবার ঘুষের টাকাসহ ধরা পড়েন। তাকে সতর্ক করা হলেও সংশোধন হননি। সংগঠনের পক্ষে রেজুলেশন করে কর কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগও করা হয়েছিল।
কর অঞ্চল বগুড়ার সদর দফতর (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান জানান, বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্যকে (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) অবহিত করা হয়েছে। শিগগিরই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।