বাংলা হেডলাইনস মানিকগঞ্জ : আনন্দঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে মানিকগঞ্জ ঘিওরে বানিয়াজুরী ইউনিয়ন সরকারি স্কুল ও কলেজের ৭৫ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রায় ২১০০ প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।
সকাল থেকে বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হতে থাকে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। বহুদিন পর বন্ধুর সঙ্গে দেখা হতেই আবেগঘন আলিঙ্গন কোথায় ছিলি এত দিন? কত দিন পর দেখা। এমন নানা প্রশ্নে-আড্ডায় মুখরিত হয়ে ওঠে স্কুলমাঠ। দিনভর আনন্দ আয়োজনের শুরু হয়েছিল শোভাযাত্রার মাধ্যমে।
‘শেকড়ের টানে প্রিয় প্রাঙ্গণে’ আহ্বানে স্কুলচত্বর থেকে শুরু হয় শোভাযাত্রা। জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি নীনা রহমান শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন। এরপর শোভাযাত্রা ও আনন্দ র্যালি আশপাশের এলাকা ঘুরে বিদ্যালয়ে এসে শেষ হয়। পুনর্মিলনে হাজির হয়েছিলেন বিদ্যালয়ের ৭৫ বছরের সব ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। কখনো ব্যাচভিত্তিক, কখনো বড় ভাইদের আড্ডায় স্মৃতি খুঁজে ফিরছিলেন শিক্ষার্থীরা।
শোভাযাত্রার পরের পর্ব ছিল আলোচনা অনুষ্ঠান। পূর্নমিলনী বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আহমেদ ইব্রাহিম যিশুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ ক্রিকেট র্বোডের পরিচালক এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন্ মোর্তজা,বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন, জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস, পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম,এ্যাশিউর গ্রুপের চেয়ারম্যান মোঃ শেখ সাদী, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম মহিউদ্দিন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান হাবিব, পুনর্মিলনী বাস্তবায়ন কমিটির সাধারন সম্পাদক মোঃ শাহিদুজ্জামান শাহিদ প্রমূখ।
এ সময় পুনর্মিলন উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা স্মৃতিপট সবার হাতে তুলে দেওয়া হয়। কথামালার পরই শুরু হয় সাংস্কৃতিক আয়োজন। নৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নেয় বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। শেষ পর্বে গান পরিবেশন করেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী হৃদয় খান, সহ শিল্পীরা। প্রায় তিন ঘণ্টা শিল্পীর সঙ্গে গলা মিলিয়ে চলতে থাকে শিক্ষার্থীদের আনন্দ–উল্লাস। আঞ্চলিক গানসহ জনপ্রিয় গানে সুর মেলান সবাই। তবুও নতুন-পুরোনো বন্ধুদের কোলাহলে যেন ফিরে এল বিদ্যালয়ের সোনালি দিনের স্মৃতি। এমন আয়োজন পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে বন্ধনটা আরও শক্ত করেছে।এমনই মন্তব্য প্রতিটি ব্যাচের ছাত্রছাত্রীদের।