বাংলা হেডলাইনস বগুড়া: বগুড়ার গাবতলীর ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বুধবার। মেলাকে ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে মহিষাবান ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম তথা উপজেলা জুড়ে। মেলাকে সামনে রেখে আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের বাড়িতে মেয়ে, জামাই, নাতি-নাতনিসহ আত্মীয়-স্বজনে ভরে গেছে।
প্রতিটি বাড়িতে শীতের পিঠাসহ বিভিন্ন খাবার দিয়ে আপ্যায়ন চলছে। মেলায় নাগরদোলা, চরকি, সার্কাস, জাদু খেলা, মোটর সাইকেল খেলাসহ শিশুদের জন্য অন্যান্য খেলা চলবে।
একদিনের মেলা সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মেলায় জুয়া বা অশ্লীল নাচ-গান হলে প্রশাসন কঠোর হস্তে দমন করবে।
স্থানীয় মুরুব্বিরা জানান, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সন্যাসী পূজা উপলক্ষে প্রায় ৪০০ বছর আগে থেকে গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের গোলাবাড়ি ও গাড়িদহ এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে একদিনের ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা বসে। মাঘ মাসের শেষ বা ফাল্গুনের প্রথম বুধবার মেলার আয়োজন করা হয়। মেলা সুবোধ বাজার, দূর্গাহাটা, বাইগুনী, দাঁড়াইল, তরনীহাট, পেরীহাটসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে বসে। মেলাকে ঘিরে উৎসবের আমেজে মেতে উঠেন আশপাশের গ্রামের নানা ধর্ম ও বর্ণের মানুষ। মেলা একদিনের হলেও এর আমেজ ২-৩দিন থাকে। ঈদ বা অন্য কোন উৎসবে মেয়ে-জামাই বা আত্মীয়-স্বজনদের

দাওয়াত না দিলেও পোড়াদহ মেলায় দাওয়াত করা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। মেলাকে সামনে রেখে নারীরা আগেই বাড়িঘর পরিস্কার করে নেন। মুড়ি, খৈ ভাজা,
নাড়কেলের নাড়ু ও হরেক রকম পিঠা তৈরি করেন। মেলার দিন মেলা থেকে বড় মাছ কিনে স্বজনদের আপ্যায়ন করা হয়।
মেলারও মূল আকর্ষণ হলো দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় মাছ, মিষ্টি আর কাঠের তৈরি ফার্নিচার। ফার্ণিচার কেনা-বেচা মেলার দিনে চললেও মূলত মেলার পরের দুইদিনেও পুরোদমে কেনাবেচা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন আসবাবপত্র, বড়ই, কৃষি সামগ্রী ও খাদ্য দ্রব্য হাট-বাজারের মতোই কেনাবেচা হবে।
মেলার পরিচালক মহিষাবান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, মেলাটি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। মেলায় নাগরদোলা, চরকি, সার্কাস, জাদু খেলা, মোটর সাইকেল খেলাসহ শিশুদের জন্য অন্যান্য খেলা চলবে।
গাবতলী থানার ওসি সাবের রেজা আহমেদ বলেন, পোড়াদহ মেলাটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। মেলায় কোন প্রকার জুয়া বা অশ্লীল নাচ-গান করার চেষ্টা হলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।