বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির বৃহস্পতিবার দুপুরে ধষর্ণ মামলায় ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা ও তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে নির্যাতনের শিকার তরুণীকে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পাঁচিল গ্রামের মোজাহার আলীর ছেলে রাসেল ওরফে রবিউল (২৫), সুলতানের ছেলে নাজমুল (২৪), নুরু ওরফে নুর ইসলাম (২৬), আলতাফ কসাইয়ের ছেলে মোমিন (৩৪) এবং ভাটপিয়ারী গ্রামের ময়দান আলীর ছেলে সোহেল (২৬) ও দানেজ আলীর ছেলে রাজ্জাক (৪৪)।
এদের মধ্যে সোহেল ও মোমিন পলাতক রয়েছে বাকি ৪ আসামির উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন আদালত। ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল হামিদ লাবলু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ভাটপিয়ারী গ্রামের একটি মেয়ের (১৮) সঙ্গে পাঁচিল গ্রামের রাসেলের মোবাইলফোনে প্রেম হয়। ২০১৬ সালের ২০ এপ্রিল রাতে ওই তরুণীকে ফোন করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যমুনা নদীর ভাটপিয়ার চরে আসতে বলে রাসেল। প্রেমিককে বিশ্বাস করে মেয়েটি সেখানে গেলে রাজ্জাক, নাজমুল, নুরু ও সোহেলকে ফোন করে ডেকে আনা হয়। পরে মেয়েটিকে পাঁচজন মিলে ধর্ষণ করে। এসময় নির্যাতনের শিকার তরুণী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ধর্ষণকারীরা তাকে আখক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যায়। পরদিন ভোরে মেয়েটির জ্ঞান ফিরলে অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফেরার পথে অন্য আসামি মোমিন তাকে একা পেয়ে রাস্তার পাশে নিয়ে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে মেয়েটি ফোন করে তার বোন ও ভগ্নিপতিকে বিষয়টি জানালে অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন তারা। এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ৬ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করেন পুলিশ।
দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আজ বৃহস্পতিবার উল্লেখিত রায় ঘোষণা করেন।