বাংলা হেডলাইনস নওগাঁ : নওগাঁর পোরশায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে সীমান্ত এলাকায় মাদক ও গরু চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২৯৩ জন আত্মসমর্পণ করেছে। আজ শনিবার বিকেলে পোরশা উপজেলার নিতপুর সীমান্ত চৌকি সংলগ্ন মাঠে আত্মসমর্পণের এই অনুষ্ঠান হয়।
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ১৬ বিজিবি নওগাঁ ব্যাটালিয়ন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে আত্মসমর্পণপত্র গ্রহণ করেন বিজিবির রাজশাহীর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তুহিন মো. মাসুদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজিবি নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এ কে এম আরিফুল ইসলাম।
নিতপুর, হাঁপানিয়া ও কলমুডাঙ্গা সীমান্ত চৌকির বিজিবি কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে পোরশা ও সাপাহার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত মোট ২৯৩ জন ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করে।
যুবক আমিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত পার হয়ে গরু চোরাইপথে আনা নেয়া করতাম। আমরা ৪/৫ জন ভোরে যেতাম এবং সকাল দিকে গরু নিয়ে ভারত থেকে ফিরে আসতাম। ভারতের লোকেরা গরু এগিয়ে নিয়ে এসে দেয়। এরপর আমরা নিয়ে আসতাম।বাংলাদেশে গাই-বাছুর ৪০/৫০ হাজার টাকা দাম। আর ভারতে ৩/৪ হাজার টাকা দাম। মহাজনরা এসব গরু বাংলাদেশে ৪০/৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। আর আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার করে জোড়া প্রতি পাই ১০ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত ২০ জোড়া গরু পার করেছি। মাস দুই থেকে আর গরু আনা নেয়া করিনি।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো মামলা খাইনি। এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে আত্মসমর্পণের জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। যেহেতু বিজিবি একটা সুযোগ দিচ্ছে এ জন্য এসেছি। এটা করাতে ভালো হয়েছে।
একই গ্রামের এমদাদুল হক বলেন, মাঠে কৃষিকাজ করতাম। দেখতাম এলাকার বেশ কিছু যুবক গরু আনা নেয়া করত। স্বল্প সময়ে তারা বেশ টাকা পেত। এরপর মহাজনদের সঙ্গে পরিচয় হয়। গত ৫ বছর থেকে অবৈধভাবে গরু আনা নেয়া করেছি। প্রতি জোড়া গরুতে ১০/১৫ হাজার টাকা পেতাম। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ জোড়া গরু নিয়ে আসছি।
এছাড়াও গরু চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত নীতপুর গ্রামের শহীদুল ইসলাম, আব্দুল কাইয়ুম, আব্দুল মালেকসহ কয়েকজন বলেন, আমরা ভুল করে এতোদিন চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। বিজিবি আমাদের আত্মসমর্পণের ব্যবস্থা করায় সুবিধা হয়েছে।
প্রধান অতিথি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তুহিন মো. মাসুদ বলেন, ‘আমাদের দেশের লোক আরেক দেশে গিয়ে গ্রেপ্তার হচ্ছে, নির্যাতিত হচ্ছে, বুলেটবিদ্ধ হয়ে লাশ হয়ে দেশে ফিরে আসছে; আমাদের মন খারাপ হয়ে যায়। সীমান্তরক্ষী বাহিনী কখনো চায় না, সীমান্ত এলাকার মানুষ কষ্টে থাকুক। আপনাদের নিরাপত্তার জন্য বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। দেশের প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে আজকে যারা অন্ধকার জগৎ থেকে আলোর পথে ফিরে আসলেন, তাদের সাধুবাদ জানাই। আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিরা তাদের শপথ ধরে রেখে দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন, এই প্রত্যাশা করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে সরকার সীমান্ত অপরাধ বন্ধে অত্যন্ত কঠোর। কোনো ভাবেই দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন কাজ করতে দেবে না বিজিবি।’
উল্লেখ্য, গত ২৪ জানুয়ারি ভারত থেকে গরু আনার পথে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত হন তিন বাংলাদেশি।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহরাব হোসেন, নিতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মো. আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।