বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫১ অপরাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
‘শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করতেই পারে না’: ফজলুর বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তকারীদের প্রশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে হামলাকারী ঘোর খ্রিষ্টানবিরোধী: ট্রাম্প ফ্লোরিডায় লিমনের সঙ্গে বৃষ্টিকেও হত্যা পাকিস্তানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফর বাতিল: ট্রাম্প বাংলাদেশে ২০২৫ সালে ‘তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়’ ছিল দেড় কোটির বেশি মানুষ স্ক্রিনশট পোস্ট করা নিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা, মারধর জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে বসার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সংসদে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে ‘পা কেটে নেওয়ার’ অভিযোগ জুলাই সনদ নিয়ে যারা বিভ্রান্ত করছে, তারা দেশের স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করেনি: বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রী

করোনা পরিস্থিতিতে জীবন ও জীবিকার প্রশ্ন ?

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০
  • ৩৬৩ দেখা হয়েছে

কোভিড-১৯ এর থাবা সারা বিশ্বকে গ্রাস করেছে। মানুষসহ সকল প্রাণীর জীবন ও জীবিকার পথ হোঁচট খেয়েছে অনেক আগেই। এখন উন্নয়নশীল বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মুখে কিছু সরল প্রশ্ন; জীবন ও জীবিকা আবারো একসাথে সচল হবে? কবে নাগাদ জীবন আবার গতিশীল হবে? শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ, অফিস-আদালত, পার্ক, সমুদ্র সৈকত আবার কবে নতুন প্রাণ ফিরে পাবে? শপিং কমপ্লেক্স চালু হবে কবে?  আবার কবে আমাদের মাথার উপরে ভুঁ ভুঁ করে বিমান চলবে? আবার কবে রেললাইনে ঝন ঝন করে ট্রেন চলবে? পিপ পিপ করে হর্ন বাজিয়ে মহাসড়কে বাস-বাইক চলবে কবে? সদা জাগ্রত ঢাকা শহর উৎপাদনের কাজে নির্ঘুম রাত শুরু করবে কবে?

এমন দিন কবে আসবে যেদিন মানুষ করোনার ভয়ে ট্রাকে করে নিজ গ্রামে ফিরে যাবে না! এমন দিন কবে আসবে যেদিন মানুষ নিজ গৃহে ফিরে বিনা অপরাধে গৃহবন্দী হবে না? এমন শুভ দিন কবে ফিরবে যেদিন খেটে খাওয়া মানবকূল জীবিকার জন্য হাটে-বাজারে এসে ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখে কান ধরে দাঁড়িয়ে পড়বে না ? এমন দিন কবে ফিরে পাবো যেদিন আবার মানুষ একে অপরকে দেখে বুকে জড়িয়ে ধরবে? কোলাকুলি করবে, হ্যান্ডশেক করবে! মুখের পর্দা খুলে কথা বলবে, মিষ্টি হাসি হাসবে! কর্মজীবিরা সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে অফিসের পথে রওনা হবে।

ফিরবে কি সেই দিন? যেদিন মানুষ কাজ থেকে ফিরে ঘরের দরজায় দন্ডায়মান পরম আদরের শিশুটিকে নির্বিঘ্নে কোলে তুলে বুকে জড়িয়ে ধরবে? কবে মসজিদসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান খুলে যাবে? জানাজার জন্য লাশের পাশে লাখো মানুষ দাঁড়াবে কবে? আবার আসবে তো সেই দিন? খুব আশায় আছি। অবশ্যই সেই দিন ফিরবে আমাদের মাঝে। মানুষ বন্দীদশা থেকে মুক্ত হবে। পৃথিবীর বুকে বয়ে যাবে শান্তির সুবাতাস।

সংশয়ের এতো প্রশ্নের জবাব দিয়ে এমন দিন কীভাবে ফিরে আসবে তা আমাদের জানা নেই। কেননা কোভিড-১৯ নিরাময়ে পৃথিবীর কোন ডাক্তার আজ পর্যন্ত প্রেসক্রিপশন লিখতে পারেন নি। সেতো দূরেরই কথা। গবেষণাও শুরু হয় নি সামান্যও। তবে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে বিশ্বের রাষ্ট্র প্রধানগণ প্রেসক্রিপশন লিখে যাচ্ছেন প্রতিদিন। নিয়মিত মানুষের জন্য স্বাস্থ্যবিধি তৈরি করছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। প্রেসক্রিপশনে যা লেখা হলো, তাতে দেখা মিললো, সকল রাষ্ট্রের জন্য একটিই ঔষধ ‘লকডাউন’।

দেশটির স্ট্যাটাস উন্নত হোক বা উন্নয়নশীল হোক! এই ঔষধের কোন মাত্রা নেই। কোন পাওয়ার উল্লেখ নেই। ঔষধের গায়ে লেখা নেই কোন ডোজেজ অর্থাৎ ঔষধটি কতদিন প্রয়োগ করতে হবে তার কোন নির্দ্দিষ্ট সময়সীমা নেই! কোভিড-১৯ এর রোগী প্রতিটি দেশ, প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি প্রাণী এমনকি প্রতিটি জড় বস্তুও।

এখনো কোন আশার আলো নেই। কারণ সারাবিশ্বে রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে ব্যাপক হারে। তবে সেই দিনের আশায় নয়। হয়তো বর্তমানে জীবন ধারণ করে বেঁচে থাকবার জন্য ইতোমধ্যে বাংলাদেশে সরকারি উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের ভাগ্যে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা জুটেছে। সার্বিক আর্থনীতি এগিয়ে নিতে ঘোষণা করা হয়েছে বাহাত্তর হাজার সাতশত পঞ্চাশ কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ করোনাযুদ্ধা ডাক্তার বন্ধুদের জন্য জুটেছে কিছু পুরস্কার।

কৃষক বন্ধুদের জন্য দেওয়া হয়েছে পাঁচ শতাংশ সুদে ঋণের ব্যবস্থা। মানুষের আনন্দ শোভাযত্রা আপাতত বন্ধ। চলছে মৃত্যুর মিছিল। জানাযা করবার লোক নেই। রাজপথ বন্ধ। বন্ধ আকাশপথ। নৌপথে কী হচ্ছে জানি না। কেবল জরুরী প্রয়োজনে ও খাদ্যসামগ্রী আনা-নেওয়ার কাজে চলছে পণ্যবাহী যান। আর ফাঁকা রাজপথে হুংকার দিয়ে চলছে অ্যাম্বুলেন্স। রাষ্ট্রের মালিক জনগণ আজ দিশেহারা। তাঁরা কেবল তাদের কর্মচারীদের হাতে জীবন রক্ষার দায়-দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে ঘরে বসে দিন যাপন করছে। বেতনের আশা নেই তবুও সাংবাদিক বন্ধুরা ছুটে বেড়াচ্ছেন মানুষকে খবর জানানোর জন্য। অবশ্য তাঁদের জন্য এখন পর্যন্ত কোন প্রণোদনা প্যাকেজ ও পুরস্কার ঘোষণা হয়েছে বলে আমি জানতে পারি নি!

এমতবস্থায় মানুষের দাবি-দাওয়ার ও শেষ নেই। ভাড়াটিয়ায়া বলছেন বাড়ির ভাড়া মাফ করে দিতে হবে। ছাত্র বন্ধুরা আওয়াজ দিচ্ছেন টিউশন ফি পরিশোধ করবো কেমন করে? ম্যাচের সিট ভাড়া মাফ করে দিতে হবে। অনেকের দাবি আছে মোবাইল ফোন আপারেটর কোম্পানীকে বিনামূল্যে ইন্টারনেট প্যাকেজ দিতে হবে।

কিন্তু যেসব মানুষের জীবন ওই কেবলমাত্র বাড়ি ভাড়ার টাকা দিয়ে চলে তাঁদের জীবিকা কী হবে?  তা জানার বা বোঝার জন্য কেউ প্রশ্ন তোলে নি। বে-সরকারি চাকুরীজীবি বন্ধুগণ শুধু বেতন নয় চাকরী হারানোর ভয়ে আতংকিত প্রহর গুনছেন প্রতিদিন। শেষ পর্যন্ত তাদের ভাগ্যে কী হবে কেউ জানেন না! ‘লকডাউন’ নামক ওই ঔষধটি কী শেষ পর্যন্ত পারবে কোভিড-১৯ নিরাময় করতে?  হয়তো এই পদ্ধতি মানুষকে জীবনে বেঁচে থাকার জন্য সহায়তা দিবে। বেঁচে যাবে শত সহশ্র প্রাণ।

কিন্তু বেঁচে থেকে না খেয়ে পরিবার নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়া ওই মানুষগুলোর জীবন ও জীবিকার পথ আবিস্কারের জন্য এখনই গবেষণা হওয়া দরকার নয় কী?  তার জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন এখনই প্রয়োজন নয় কী?  তাছাড়া খাবার জন্য লড়াইয়ের সেই মহামারী আরো বিপদের হবে না তো?  হয়তো খাদ্যের অভাবে মানুষ চুরি করবে। জীব-জন্তুর কাঁচা মাংস খাবে। সাপ পোকা-মাকড় সব খাবে। বিলুপ্ত হবে সভ্যতা। আমরা কতটুকু প্রস্তুত?

লেখক: মো. আবদুল কুদ্দুস, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও গবেষক, মোবাইল- ০১৭১৭৮৫৪১০৪

বাংলাহেডলাইনস: এটা লেখকের নিজস্ব মত। বাংলাহেডলাইনস এর মত প্রতিফলিত করে না।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com