বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ন
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার:
‘শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করতেই পারে না’: ফজলুর বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তকারীদের প্রশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে হামলাকারী ঘোর খ্রিষ্টানবিরোধী: ট্রাম্প ফ্লোরিডায় লিমনের সঙ্গে বৃষ্টিকেও হত্যা পাকিস্তানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফর বাতিল: ট্রাম্প বাংলাদেশে ২০২৫ সালে ‘তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়’ ছিল দেড় কোটির বেশি মানুষ স্ক্রিনশট পোস্ট করা নিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা, মারধর জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে বসার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সংসদে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে ‘পা কেটে নেওয়ার’ অভিযোগ জুলাই সনদ নিয়ে যারা বিভ্রান্ত করছে, তারা দেশের স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করেনি: বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রী

মহাদুর্যোগ করোনাকালে কৃষির সংকট এবং সরকারের করণীয় বিষয়ক প্রস্তাবনা

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২০
  • ৬৩৬ দেখা হয়েছে

বাংলা হেডলাইনস টাঙ্গাইল: করোনা সংক্রমণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলদেশ দারুণ ঝুঁকির মধ্যে। লকডাউন চলছে।

কিন্তু মানুষ বেপরোয়া। তবু চলছে। দেশ অচল প্রায়। মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে। অনেক মানুষ গৃহবন্দী। হাটবাজার, মার্কেট, মসজিদ, মন্দির সবই প্রায় বন্ধ। সুতরাং করোনা দেশে স্থবির অবস্থার সৃষ্টি করেছে। এটি জরুরি অবস্থা বলাই সমীচীন। করোনা লকডাউন বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেশি।

করোনার ভয়াবহতার এই কালে জীবন যেখানে থমকে গেছে, ঠিক সেসময় কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য উৎপাদন মৌসুম খ্যাত বোরো ধান কাটার সময় উপস্থিত প্রায়। হাওরে তো আগামই কাটতে হবে। প্রবল বৃষ্টিপাত, শিলাবৃষ্টি এবং উজানের ঢলে পাকা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হবার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে। ধানকাটার শ্রমিক সারাদেশে দূর্লভ। গতবার তো ক্ষেতের ধান কাটতে না পারার কারণে কৃষক পাকাধানে আগুণ দিয়েছে হতাশায়।

এবার গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী বন্ধ থাকায় হয়তো শ্রমিক সংকট কাটানো যেতে পারতো কিন্তু করোনার লকডাউনে তা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। এখানে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে এখনই নীতি ও সহায়তা কৌশল নিতে হবে।

 পবিত্র রমজান সমাগত। সিয়াম সাধনার মাস। বিশেষ কিছু খাদ্যপণ্যের চাহিদা তৈরি হয়। চাল ডাল শাক সব্জি বাদেও চিনি তেল খেজুর ছোলা ও ফলের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এই সময় সরকারিভাবে পণ্য মজুদ, সরবরাহ ও বাজার নিয়ন্ত্রণ খুব জরুরি।

সরকারি প্রশাসন যন্ত্রের সমন্বয় জরুরি। সকল বিভাগকে কেন্দ্রিয়ভাবে দায়িত্ব নিয়ে স্ব স্ব মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নির্দেশনা জারি করলে কাজ ত্বরান্বিত হবে। মাঠপ্রশাসনের আমলাতান্ত্রিক সমন্বয়ের জায়গায় রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণকে সুদৃঢ় করার অবকাশ আছে। সেক্ষেত্রে সর্বদলীয় গ্রহণযোগ্য উচ্চশিক্ষিত সুনাম ও সততাসম্পন্ন নেতৃত্ব নির্বাচন সরকারের কাজ সহজ করতে সমর্থ্য হবে।

গতানুগতিক প্রশাসনিক ধারায় জাতির এ ক্রান্তিকাল অতিক্রম দুরূহ হবে। স্বাভাবিক সময়ের রুটিন ওয়ার্কে অভ্যস্ত কাঠামোতে এই জরুরি কাজগুলোসুষ্ঠুভাবে সম্পাদন সত্যি কঠিন হয়ে উঠছে। ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ ও ১০/- টাকার চাল বিক্রিতে যা ঘটছে তা কারও কাম্য নয়। এদিকে সর্বোচ্চ মহল থেকে নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত আসতে হবে।

 বাংলাদেশের মধুমাস খ্যাত জ্যৈষ্ঠের আগমনী বার্তা চারদিকে ধ্বনিত হচ্ছে। আসছে আম কাঁঠাল আনারস জামসহ অসংখ্য ফলের সমরোহের সময়। এই ফল উৎপাদনে চাষীরা নানা কৃত্রিম রাসায়নিক ব্যবহার করে- বুঝে না বুঝে।

আম উৎপাদনে অনেকের বিশেষ দৃষ্টি থাকলেও অন্যান্য ফলের ক্ষেত্রে কিন্তু অতটা সজাগ দৃষ্টি চোখে পড়ে না। আর বাজার কাঠামোও দূর্বল। নিয়ন্ত্রণের অভাব। আমের বাজারের মতই কাঁঠালের বাজার মনিটরিং লাগবে। লাগবে আনারসের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে দৃঢ় হস্তক্ষেপ।

মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ফ্লু জাতীয় রোগ মুক্তিতে আনারস বিপুল অবদান রাখে। জানি না, বর্তমান মহামারী  কোভিড-১৯ দমনে এই ফলের কার্যকারিতা কেমন হবে। ফলটির মৌসুম আসতে এখনও বেশ দেরি আছে।

বাংলাদেশের বিপুল পরিমান কাঁঠাল ও আনারস উৎপাদিত হয় মধুপুর গড় অঞ্চলে। কাঁঠালের মত অতি পুষ্টিকর ফলের প্রতি বড় অবহেলা আছে একশ্রেণির মানুষের। ফলে ফলটি বিত্তবিশেষে একটি শ্রেণির খাবার এটি নয়। কিন্তু দরিদ্রপীড়িত শ্রমজীবী মানুষের দৈহিক বিকাশ ও পুষ্টিসাধনে এর জুড়ি নেই। সারা বছরের রোগপ্রতিরোধি ক্ষমতা তৈরি করে গরীব মানুষের শরীরে। মধুপুর অঞ্চলে এবং বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামে এই কাঁঠাল বিপুল উৎপাদন হয়।

এছাড়াও বাংলাদেশের প্রায় সব গ্রামাঞ্চলে এবং গেরস্থের সব বাড়িতে কাঁঠাল গাছ আছেই। বাংলাদেশে এই বিপুল পুষ্টিসম্পন্ন ফলটিকে নিয়ে একটি খাদ্য শিল্প প্রতিষ্ঠিত হলে উপর্যুক্ত সুফলসমূহ মানুষ পাবে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও সম্ভব হবে। বিপুলসংখ্যক বেকারের উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে কর্মসংস্থান হবে। শিল্পের স্থানীয়করণ হলে ব্যাকওয়ার্ড শিল্পও তৈরি হবে। শহরের উপর জনসংখ্যার চাপ কমবে।

 সর্বশেষ, বর্তমান ক্রান্তিকালেও আগাম একটি কৃষি উৎপাদন বিষয়ক ইস্যু ও সমস্যা তুলে ধরে লেখাটি শেষ করবো। ইস্যুটি হলো মধুপুর গড়াঞ্চলের লালামাটিতে উৎপাদিত নানাজাতের আনারসের উৎপাদন বিষয়ক। এই অঞ্চলে ঘরোয়া এবং বাণিজ্যিকভিত্তিতে বিপুল আনারস জন্মে। আনারসের মান ভাল। খেতে সুস্বাদু। কিন্তু বাজার কাঠামো খুব দূর্বল। আগেই বলেছি আনারস ফ্লু জাতীয় রোগ প্রতিরোধে ধনন্তরী। এটির মূল, কান্ড, পাতা এবং ফল ঔষধি গুণের আধার।

এবার আসা যাক- আনারস উৎপাদনে বর্তমানের সমস্যার কথায়। জমির মালিকের আর্থিক স্বচ্ছলতার অভাবে এবং মূলধন না থাকায় চাষী অকালে ফল বিক্রি করে ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। আগাম ফল উৎপাদন ও অধিক মুনাফার আশায় মাটিতে মধ্যস্বত্বভোগীরা অপরিকল্পিতভাবে অসম পরিমাণ সার, কীটনাশক ও হরমোন প্রয়োগ করে। আনারসের ভোক্তারা এই বিষযুক্ত আনারস খেতে বাধ্য হয়।

এখানে সরকারের কৃষি বিভাগসহ সকল ব্যবস্থাপক স্তরের সম্পৃক্ততা জরুরি।

এই মূহুর্ত দরকার আনারস চাষীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির জন্য প্রচারণা, উঠান বৈঠক এবং তাদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করা জরুরি। উন্নত বাজার ব্যবস্থা ও ফলের লাভজনক ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য কাজ শুরু করা। চাষীরা জ্ঞাত হওয়া সত্ত্বেও যদি অপরিকল্পিতভাবে সার, কীটনাশক ও হরমোন প্রয়োগ করে- যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হতে পারে সেক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করা জরুরি।

মধুপুর অঞ্চলে রাসায়নিকমুক্ত আনারস চাষীও কিন্তু বেশকিছুসংখ্যক আছেন আমাদের জানামতে। তাদেরকেও উৎসাহ দেয়া প্রয়োজন। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মার্কেটিং বিভাগ কৃষি বিভাগের সাথে সুসমন্বিতভাবে এখনই উদ্যোগ গ্রহণ করলে বাংলাদেশের অনানুষ্ঠানিক এই কৃষিখাতগুলো সবল হবে এবং জাতীয় ক্ষেত্রে বিপুল অবদান রাখবে।

-ড. মুহাম্মদ আজাদ খান, সহযোগী অধ্যাপক, কুমুদিনী কলেজ, টাংগাইল। ০১৬৮২১৯১৫০৬। drmdazadkhan@yahoo.com

বাংলাহেডলাইনস: এটা লেখকের নিজস্ব মত। বাংলাহেডলাইনস এর মত প্রতিফলিত করে না।

ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের মতামত জানাতে পারেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

এই বিভাগের আরো সংবাদ
Banglaheadlines.com is one of the leading Bangla news portals, Get the latest news, breaking news, daily news, online news in Bangladesh & worldwide.
Designed & Developed By Banglaheadlines.com