বাংলা হেডলাইনস: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে রাজশাহী বিসিক শিল্পনগরীতে দৈনিক এক হাজার দুই শত লিটার জীবাণুনাশক হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন চলছে।
করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই বিসিক শিল্পনগরীগুলোতে জীবাণুনাশক হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ বিভিন্ন ধরনের অতি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।
শিল্পনগরীতে অবস্থিত ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘টিম ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড’ প্রতিদিন ১০০ মিলি আকারের ১২ থেকে ১৫ হাজার বোতল হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন করছে। উৎপাদিত এ হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও সরবরাহ করা হচ্ছে।
পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি জীবনরক্ষাকারী বিভিন্ন প্রকারের ১০ হাজার প্যাকেট ওষুধ উৎপাদন করছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা ।
এছাড়া, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে শিল্পনগরীর আরো ৩টি প্রতিষ্ঠান‘অশোকা ল্যাবরেটরি’, ‘হকস্ ফার্মা’ এবং ‘শাহী ল্যাবরেটরি’ সুনামের সাথে ইউনানী/আয়ুর্বেদিক ওষুধ উৎপাদন করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠান তিনটিতে সাধারণজ্বর, সর্দি, হাঁপানিসহ জটিল ও কঠিন রোগের ওষুধ উৎপাদন কার্যক্রম চালু রয়েছে।
রাজশাহী বিসিকের উপ-মহাব্যবস্থাপক জাফর বায়েজীদ জানান, শিল্পনগরীর কারখানাগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং সামাজিক দূরুত্ব বজায় রেখে শ্রমিকেরা পণ্য উৎপাদন করছেন।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কারখানাগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সরকারের নির্দেশনায় কারখানাগুলোতে পণ্য উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহ চেইন অব্যাহত রাখতে বিসিকের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা দেয়া হচ্ছে, পিআইডি’র এক প্রেস রিলিজে আজ জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে প্রায় ৯৭ একর জমির উপর রাজশাহী বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হয়। এতে তিন শত পঁচিশটি শিল্প প্লটের দুইশত চারটি শিল্প ইউনিট সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ শিল্পনগরীতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।