বাংলা হেডলাইনস কুড়িগ্রাম: করোনা ভাইরাস মহামারী সংক্রমণ রোধে বন্ধ রাখা হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলার বালিয়ামারী চরে জিঞ্জিরাম নদীর পাশে নো-ম্যান্স ল্যান্ডের ১০৭২ আর্ন্তজাতিক পিলারের কাছে বর্ডার হাট।
এ হাটের উপর ভিত্তি করে জীবিকা নির্বাহকারী বালিয়ামারীর শতাধিক পরিবার পড়েছেন চরম বিপাকে। হাট বন্ধ হওয়ায় কর্ম নেই তাদের আর কর্ম না থাকায় আয়ও নেই তাদের তাই সংসারে চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন পরিবারের উপার্জনকারীরা।
বর্ডার হাটটি বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলার বালিয়ামারী চর আর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ওয়েস্ট গারো হিল জেলা আমবাতি’র মাহেন্দগঞ্জ থানার কালিয়ার চরের নো-ম্যান্স ল্যান্ডের জিঞ্জিরাম নদীর পাশে চালু হয় ২০১১ সালের জুলাই মাসে।
সপ্তাহে দুদিন হাট বসতো। উভয় দেশের ক্রেতা-বিক্রেতারা এ হাটে আসতেন উৎপাদিত কৃষি পণ্য,কুটির শিল্প ও হস্ত শিল্পসহ গার্মেন্টস সামগ্রী বেচাকেনা করতে।
আর বর্ডার হাটকে কেন্দ্রকরে বালিয়ামারীর শতাধিক পরিবার পেয়ে যান উপার্জনের নুতন পথ। অনেকে হাটে পণ্য আনা-নেওয়ার কাজ করে আবার অনেকে নৌকায় যাত্রী পারাপার করে আয় করতেন। এসব পরিবারের অনেকে আবার বর্ডার হাটে বাংলাদেশি পণ্য বিক্রি করতেন।
আবার কেউ কেউ ভারতীয় পণ্য কিনে আনতেন। এভাবে তারা আয় করে জীবন-জীবিকা চালাতে থাকেন।
বর্ডা হাটের বাংলাদেশ অংশের ক্রেতা-বিক্রেতা সমন্বয়কারী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবু মিয়া জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে বন্ধ হয়ে যায় বর্ডার হাট। উভয় দেশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ হাট বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এটি বন্ধ থাকবে।
তিনি আরো জানান, “অবশ্যই এ হাট বন্ধ থাকার কারনে শতাধিক পরিবারের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের কেউ কেউ বসে বসে অলস সময় পার করছেন আবার কেউ কেউ অন্য কাজে যোগ দিয়ে আয় করছেন ।“
বালিয়ামারী চরের মঞ্জু মিয়া (৪৭) জানান, বর্ডার হাটকে কেন্দ্র করে ১৮-২০ টি নৌকা রাখা হয় জিঞ্জিরাম নদীতে। সপ্তাহে দুইদিন হাট বসে আর এই দুইদিনে একজন নৌকার মাঝি সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা আয় করতেন যাত্রী পারাপার করে।
তিনি আরো জানান, “আমারও একটি নৌকা আছে। এখন নৌকা ঘাটে বেঁধে রেখেছি। বর্ডার হাট বন্ধ থাকায় বালিয়ামারী ঘাটে আর কেউ আসেন না”।
”সপ্তাহে দুইদিন বর্ডার হাটে পণ্য পরিবহনের কাজ করে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা আয় করতাম,” এমনটি জানালেন বালিয়ামারী চরের আজিজুল ইসলাম (৪৬)। “ বর্ডার হাট ঘিরে যা আয় করতাম তা দিয়ে সংসার ভালোই চলছিল কিন্তু এটি বন্ধ হওয়ায় এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছি,” তিনি জানান।
সহিদার রহমান (৫৬) জানান,বর্ডার হাটকে কেন্দ্র করে এখানে কয়েকটি ছোট ছোট চা ও পানের দোকান গড়ে উঠে আর সপ্তাহে দুদিন হাটবারে এসব দোকানে ক্রেতাদের ভিড় থাকতো আর বিক্রিও হতো সন্তোষজনক। বর্ডার হাট বন্ধ থাকায় বন্ধ হয়েছে এসব দোকানপাটও।