বাংলা হেডলাইনস সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জে করোনায় বিপর্যস্ত দুগ্ধ খামারিদের কাছ থেকে ১ লাখ লিটার দুধ কিনল র্যাব-১২ সদস্যরা।
দেশের সংকটময় মুহূর্তে এমন উদ্যোগ নেয়ায় এ অঞ্চলের দুগ্ধ খামারীদের মধ্যে এখন স্বস্তি ফিরে এসেছে। র্যাব-১২’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বহুকাল ধরে সিরাজগঞ্জ-পাবনার এ অঞ্চলে হাজার হাজার ছোট বড় দুগ্ধ খামার গড়ে উঠে। এ দুধ উৎপাদনের সাথেই জীবিকা নির্বাহ করে এ অঞ্চলের মানুষ। এ দুগ্ধ খামারের ব্যাপকতায় চল্লিশের দশকে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি নৌবন্দর এলাকায় মিল্ক ভিটাসহ দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।
এ অঞ্চল থেকেই দেশের দুধের চাহিদার এক বড় অংশের যোগান হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। কিন্তু করোনা ভাইরাস সংক্রমণে চলমান লকডাউনে থামিয়ে দেয় খামারিদের এ লাভজনক ব্যবসা। এ কারণে দুগ্ধ খামারিরা উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে না পারায় নিরুপায় হয়ে দুধ ফেলে দিচ্ছিলেন।
তাদের এ কষ্ট লাঘবে এগিয়ে আসেন র্যাব-১২ ’র অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মুহাম্মদ খায়রুল ইসলাম।
তার নেতৃত্বে গত ২২ এপ্রিল র্যাব-১২ শুরু করেছিল এই অঞ্চলের দুধ কেনা কার্যক্রম। প্রথমে ১০ হাজার লিটার দুধ ন্যায্যমূল্যে কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এমন উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানান র্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এবং তিনি আরো বড় পরিসরে এ কাজ করার নির্দেশ দেন।
এ নির্দেশনার পর থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ লিটার দুধ কেনা হয়েছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এসব দুধ থেকে বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য (ঘি, পনির ইত্যাদি) তৈরি করে তা সারা দেশের র্যাব সদস্যদের মাঝে খরচ মূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। র্যাব -১২’র অধিনায়ক বলেন, দেশের এ সংকটময় মুহূর্তে সাধ্যমত স্বল্প আয়ের মানুষের পাশে দাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে সর্বাত্মকভাবে খামারিদের পাশে দাঁড়াতে এ উদ্যেগ নেয়া হয়। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।