বাংলা হেডলাইনস রাঙ্গামাটি : প্রায় অর্ধশতাব্দি ধরে মনে পুষে রাখা ‘সড়ক না পাওয়ার কষ্ট’ সরিয়েয় দিতে চান পঁয়ষট্টি বছরের নিহার বিন্দু চাকমা।
তিনি বলেন, বাবার মুখে শুনে কিশোর বয়স থেকে প্রতীক্ষায় আছি পাকা সড়কের। অনেক চেষ্টা করেও কিছু করতে পারিনি। মরার আগে অন্তত সড়কে ‘ইট বিছানো’ দেখলে আত্মা শান্তি পাবে’।
মৌসুমী ফল আর সবজির জন্য নানিয়ারচরের ঘিলাছড়ি বাজার এখন ‘ব্যবসা কেন্দ্র’। এ বাজারের তত্বাবধায়ক (বাজার চৌধুরী) হওয়ায় ঘিলাছড়ি গ্রামের বাসিন্দা নিহার বিন্দু আক্ষেপ যেন একটু বেশিই।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, পানি, পরিবহনসহ বাজারের সব সুবিধাই মেলে এখানে। রাঙ্গামাটি খাগড়াছড়ি প্রধান সড়কের এর অবস্থান হওয়ায় ফড়িয়াদের আকর্ষণ এখানেই। কিন্তু এই বাজারের প্রাণ কৃষকদের হেঁটে আসার রাস্তাটুকুও নেই।
খেত থেকে কাঁধে, মাথায় করে কাঁদা-পানি মাড়িয়ে বাজারে বয়ে আনতে হচ্ছে এ ফসল। মাত্র চার কিলোমিটার ‘ইটের সড়ক’ হলেই অর্ধশতাব্দির দুঃখ ঘুচবে অন্তত বারো হাজার মানুষের।
তবে ‘বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে সড়কটি তৈরি করা যাচ্ছে না’ বলে জানিয়েছেন নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রগতি চাকমা। তিনি এ বিষয়ে জনস্বার্থে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা পরিষদের হস্তক্ষেপ চান।
গত বৃহস্পতিবার ঘিলাছড়ি গ্রামে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে। ঘিলাছড়ি বাজারের সাথে সংযুক্ত পশ্চিম দিকে এ গ্রামে যেতে বড় মাওরুম খালে সেতু পাড় হতে হয়। কাদা পানিতে একাকার মেঠো পথ ধরে পাহাড়ি নারি, পুরুষ এমনকি প্রবীণ ও শিশুরাও দলবেঁধে আসছেন বাজারে।
পুরুষরা হাতে, কাঁধে আর নারীরা মাথায় করে নানান পন্য বয়ে নিচ্ছেন।
পথচারী সোনা রানী চাকমা (৫৫) জানালেন, ‘বর্ষায় কষ্টের আর শেষ থাকেনা। অন্তত ইটের রাস্তা হলেও গাড়ি দিয়ে যেতে পারতাম’।
স্থানীয় উচ্চ কেংগালছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও গ্রামটির বাসিন্দা সুরন্ত চাকমা (৫০) জানান, গ্রামবাসি নিজেরাই টাকা তুলে ঘিলাছড়ি বাজার থেকে নিচপাড়া দুই কিলোমিটার আর উপর পাড়া দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক তৈরি করেছেন।
বাজার, উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেজি স্কুল ও একটি কারিগরি বিদ্যালয়ে যেতে এর আশপাশের অন্তত বারো হাজার মানুষ সড়কটি ব্যবহার করেন।কিন্তু সড়কটির জন্য গ্রামবাসির দুঃখের যেন আর শেষ নেই।
ঘিলাছড়ি গ্রামের বাসিন্দা ২নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পুলক চাকমা বলেন, ‘সড়কটি জনগুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে বরাদ্দ কম হওয়ায় প্রকল্প নেয়া সম্ভব না’।